ইসলামাবাদ: ইসলামাবাদের পাঁচ তারকা সেরেনা হোটেলে ১০ থেকে ১২ এপ্রিল (Pakistan)অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ইউএস-ইরান শান্তি আলোচনা শেষ হয়েছে কোনো বড় অগ্রগতি ছাড়াই। কিন্তু এখন সেই আলোচনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে অন্য একটি কারণে পাকিস্তান সরকার হোটেলের বিল পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের জন্য নতুন করে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।সেরেনা হোটেল ইসলামাবাদের অন্যতম বিলাসবহুল ও নিরাপদ ভেন্যু।
এটি আগা খান ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত এবং আগা খান ফান্ড ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (একেএফইডি)-এর মালিকানাধীন। উভয় দেশের প্রতিনিধি দলের নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষতা বিবেচনায় এই হোটেলকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। আলোচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ম্যারাথন বৈঠক শেষে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।
আরও দেখুনঃ বিহারে ক্ষমতার রদবদল, মুখ্যমন্ত্রী পদে বিজেপির এন্ট্রি
কিন্তু আলোচনার পরই দেখা দেয় আসল সমস্যা।সূত্র অনুসারে, পাকিস্তান সরকার হোটেল কর্তৃপক্ষের বিল পরিশোধ করতে পারেনি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে হোটেলের মালিকপক্ষ, যা আগা খানের সঙ্গে যুক্ত, নিজে হস্তক্ষেপ করে বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এই ঘটনা পাকিস্তানের প্রশাসনিক দক্ষতা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। যে দেশ নিজেকে আঞ্চলিক শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল, সেই দেশেরই এমন অবস্থা দেখে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘদিনের। আইএমএফ-এর সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল দেশটির সরকার অনেক সময় ছোট-বড় বিল পরিশোধে দেরি করে। কিন্তু এবারের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। একটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের ভেন্যুর বিল অনাদায়ী রাখা শুধু লজ্জাজনক নয়, দেশের ভাবমূর্তিকেও ক্ষুন্ন করেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে ঠাট্টা-বিদ্রূপ শুরু হয়েছে। অনেকে লিখছেন, “হোটেলের বিল কে দেবে?” কেউ আবার আইএমএফ-এর দিকে ইঙ্গিত করে বলছেন, “আরেকটি বেলআউট প্যাকেজের প্রয়োজন হবে।”
সেরেনা হোটেলের এই ঘটনা পাকিস্তানের জন্য শুধু আর্থিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও অস্বস্তিকর। আলোচনায় কোনো চুক্তি না হওয়ায় ইতিমধ্যে সমালোচনা চলছিল। তার ওপর এই বিল অনাদায়ের খবর প্রকাশ্যে আসায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এমন একটি সংবেদনশীল আলোচনা আয়োজন করার সক্ষমতা দেখানোর আগে দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করা উচিত ছিল।




















