কলকাতা: ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক হুমকি। সেভেন সিস্টার্সকে আলাদা করে দেওয়ার মত হুমকি দেওয়া সার্জিস আলম ভারতে ? (Sarjis Alam)এমনটাই দাবি করছেন অনেকে। সার্জিস আলম যিনি গত ১৮ মাস ধরে ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে গেছেন এবং বারবার ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’ বাস্তবায়নের হুমকি দিয়েছেন, সেই সারজিস আলম এখন তার অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য ভারতে এসেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
Will the Union Home Ministry please take note and necessary action? @AmitShahOffice https://t.co/QTnMBl1tjU
— Tathagata Roy (@tathagata2) April 13, 2026
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন যে ব্যক্তি ভারতকে শত্রু বলে ঘোষণা করেন, ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিয়ে উস্কানি দেন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ান, তিনি কেন হঠাৎ করে ভারতের মাটিতে এসে চিকিৎসা সুবিধা নিতে চাইছেন? আরও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে এই সময়টাকে ঘিরে। মাত্র কয়েকদিন আগে এনআইএ ও দিল্লি পুলিশ লস্কর-ই-তৈয়বার (LeT) জঙ্গিদের একটি মডিউল ধ্বংস করেছে, যেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গেছে। এমন একটা সংবেদনশীল সময়ে সারজিস আলমের ভারতে আসা কাকতালীয় নয় বলে অনেকে মনে করছেন।
আরও দেখুনঃ সিটির দাপট, লিভারপুলের স্বস্তি! প্রিমিয়ার লিগে জমে উঠেছে শিরোপার লড়াই
সারজিস আলম বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে পরিচিত। ২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উত্তরাঞ্চলীয় সংগঠক হিসেবে সক্রিয়। ইউনুস শাসনামলে তিনি ভারতবিরোধী বক্তব্যে সরব ছিলেন। ‘আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে আছি, এখনই বা কখনোই নয়’ এমন উস্কানিমূলক কথাবার্তা তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন। ‘গাজওয়া-ই-হিন্দ’ নিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উঠেছে। বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনায়ও তার নাম জড়িয়ে আলোচিত হয়েছে।
এখন তার অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য ভারতে আসার খবরে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একজন সাধারণ নাগরিক বলেন, “যিনি ভারতকে শত্রু বলে ঘোষণা করেন, তিনি ভারতের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন। এটা কোন ধরনের দ্বিচারিতা?” সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে লিখছেন ভারতের উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা ও মানবিকতার সুযোগ নিয়ে যারা ভারতের বিরুদ্ধে বিষ ছড়ান, তাদের প্রতি সরকারের কী নীতি হওয়া উচিত?
কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, এই আগমনের পিছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য আছে কি না। বিশেষ করে যখন লস্কর-ই-তৈয়বার জঙ্গিদের গ্রেফতার করে এনআইএ বাংলাদেশ লিঙ্ক উন্মোচন করেছে, তখন এই সময়ে সারজিসের ভারতে উপস্থিতি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




















