উত্তরবঙ্গ: শিলিগুড়ির কাওয়াখালির জনসভা যেন এদিন এক বিশেষ রাজনৈতিক আবহ তৈরি করেছিল। বিশাল জনসমাগম, উচ্ছ্বাস আর স্লোগানে মুখরিত ছিল গোটা এলাকা। সেই মঞ্চ থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন এবং রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক বার্তা দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতার শুরুতেই বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, “বাংলার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে মানুষের মধ্যে যে উৎসাহ দেখেছি, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। আমি দেখেছি কীভাবে মানুষ দূরদূরান্ত থেকে, অনেক কষ্ট করে সভায় উপস্থিত হয়েছেন। এই উৎসাহই প্রমাণ করে যে মানুষ পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে।” তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘পরিবর্তন’-এর প্রসঙ্গ, যা নিয়ে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে রাজ্যের মানুষ বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে নতুন কিছু চাইছেন।
মোদী আরও দাবি করেন, এই জনসমর্থনই আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। তাঁর কথায়, “মানুষ এখন আর আগের মতো থাকতে চায় না। তারা উন্নয়ন চায়, স্বচ্ছ প্রশাসন চায়, এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়। সেই কারণেই এবার তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি সরাসরি রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ শানান। সভায় তিনি বাগডোগরার রোড শোর কথাও উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানীয় কর্মীরা প্রথমে একটি ছোট রোড শোর পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের বিপুল সাড়া সেই পরিকল্পনাকে অন্য মাত্রা দেয়। “কয়েকশ মিটার নয়, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শো হয়েছে। মানুষের এই ভালোবাসা ও সমর্থন আমাকে অভিভূত করেছে,” বলেন তিনি। তাঁর মতে, এই রোড শো শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না, বরং তা ছিল মানুষের মনের ভাব প্রকাশের এক প্রতীক। উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়েও এদিন একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই অঞ্চলের অবকাঠামো, পর্যটন এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে আরও উন্নয়ন ঘটানো হবে। চা-বাগান এলাকার শ্রমিকদের উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়েও তিনি আশ্বাস দেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যেই বহু প্রকল্প চালু করেছে, যা আগামী দিনে আরও গতি পাবে।




















