ক্রিকেটকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিতে বড় পরিকল্পনা করছে আইসিসি। সীমিত ওভারের ফরম্যাটে বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ানোর পর এবার টেস্ট ক্রিকেটকেও আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৯টি দল নিয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হলেও, ভবিষ্যতে সেটিকে ১২ দলের প্রতিযোগিতায় রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ২০২৭-২৯ চক্র থেকেই এই নতুন ফরম্যাট কার্যকর হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আইসিসি’র সব পূর্ণ সদস্য দেশই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
বর্তমানে আফগানিস্তান, জিম্বাবোয়ে এবং আয়ারল্যান্ড এই প্রতিযোগিতার বাইরে রয়েছে। ফলে বছরে খুব কম সংখ্যক টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পায় তারা। বড় দলগুলিও এই দেশগুলির সঙ্গে টেস্ট সিরিজ খেলতে খুব একটা আগ্রহ দেখায় না, কারণ তাদের নিজস্ব সূচি ইতিমধ্যেই অত্যন্ত ব্যস্ত। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই বৈষম্য অনেকটাই কমবে এবং ছোট দলগুলিও নিজেদের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পাবে।
যদিও এই পরিকল্পনাকে ঘিরে সব মহলে সমর্থন নেই। কয়েকটি প্রভাবশালী ক্রিকেট খেলিয়ে দেশ এই পরিবর্তন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, বেশি দল অন্তর্ভুক্ত হলে প্রতিযোগিতার মানে প্রভাব পড়তে পারে বা সূচি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তবে আইসিসি’র অনেক কর্তা মনে করছেন, টেস্ট ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। লাল বলের ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সব দেশকেই সমান সুযোগ দিতে হবে—এই মতই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, আইসিসি’র চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটি ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। যদিও দোহায় হওয়ার কথা থাকা ত্রৈমাসিক বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হয়ে যায় এবং অনলাইন বৈঠকে বড় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এপ্রিল মাসেই আবার মুখোমুখি বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে এই প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে।
অন্যদিকে, ২০২৮ সালের অলিম্পিকে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে আইসিসি। সেখানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগে ছ’টি করে দল অংশগ্রহণ করবে। ফলে সব দেশ সরাসরি সুযোগ পাবে না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং ওশেনিয়া—প্রতিটি অঞ্চল থেকে শীর্ষ দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ নিশ্চিত থাকবে।
অবশিষ্ট একটি স্থান নির্ধারণের জন্য ২০২৭ সালে একটি বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। একই নিয়ম মহিলা বিভাগেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ অঞ্চলভিত্তিক পারফরম্যান্স এবং বাছাইপর্ব মিলিয়েই নির্ধারিত হবে অলিম্পিকের অংশগ্রহণকারী দলগুলি। সব মিলিয়ে, আইসিসি ক্রিকেটকে আরও বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সম্প্রসারণ এবং অলিম্পিকের যোগ্যতা পদ্ধতি—দুটিই ভবিষ্যতের ক্রিকেট কাঠামোকে নতুন দিশা দেখাতে পারে।




















