নিজেদের পাতা ফাঁদেই বিপাকে ইরান! হরমুজ প্রণালীতে মাইন খুঁজতে কালঘাম ছুটছে তেহরানের

ইসলামাবাদ: শান্তি আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে পারছে না ইরান। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই জলপথে ছড়িয়ে থাকা নিজেদের পাতা বেশ ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
iran-mines-strait-of-hormuz

ইসলামাবাদ: শান্তি আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে পারছে না ইরান। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই জলপথে ছড়িয়ে থাকা নিজেদের পাতা বেশ কিছু মাইনের অবস্থান এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না তেহরান। তাছাড়া সেগুলি উদ্ধার করার মতো পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও তাদের নেই। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ইসলামাবাদে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন করে প্রযুক্তিগত ও কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপে এই প্রণালী দিয়ে ফের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার কথা থাকলেও তেহরান কেন গড়িমসি করছে, এই তথ্যে সেটাই স্পষ্ট। সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্সের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে তিনি জানান, ‘প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার’ কথা মাথায় রেখেই জলপথটি ফের চালু করা হবে। মার্কিন আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন, আরাগচির এই মন্তব্য আসলে ওই মাইন-সমস্যার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

   

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালীতে মাইন বিছানো শুরু করে ইরান। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই যাতায়াত করে। কিন্তু মাইন এবং ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলার আশঙ্কায় বর্তমানে এই পথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়েছে, যা শান্তি আলোচনায় ইরানকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে।

মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, ছোট নৌকায় করে অত্যন্ত অপরিকল্পিতভাবে এই মাইনগুলি ছড়ানো হয়েছিল। সব মাইনের নির্দিষ্ট অবস্থান ইরানের কাছেও নেই। কিছু মাইন সমুদ্রের স্রোতে দিক পরিবর্তনও করেছে। বর্তমানে ইরান একটি সংকীর্ণ পথ খোলা রেখেছে এবং নিরাপদ রুটের ম্যাপও প্রকাশ করেছে। কিন্তু আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা অজানা মাইনের কারণে সেই রুটটুকুও চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google