এশিয়ার অন্যতম বড় প্রতিযোগিতা এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিতে পারেনি ভারতীয় ফুটবল দল। বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিরুদ্ধে জয় এলেও শুরুতে হার ও ড্রয়ের জন্যই শেষ পর্যন্ত সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে। শুভাশিস বসু, লিস্টন কোলাসোদের লড়াই সত্ত্বেও সেই ব্যর্থতা মেনে নিতে হয়েছে দলকে।
তবে সামনে নতুন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে ভারতের জন্য। দীর্ঘ চব্বিশ বছর পর আবার ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলতে যাচ্ছে ভারতীয় দল। দুই হাজার দুই সালের পর এই প্রথম সেখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলবে তারা, যা নিঃসন্দেহে বড় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে চলেছে ফুটবলারদের জন্য।
এই সফরের মূল আকর্ষণ চার দলের আন্তর্জাতিক প্রীতি প্রতিযোগিতা ‘ইউনিটি কাপ দুই হাজার ছাব্বিশ’। এই প্রতিযোগিতায় ভারতের পাশাপাশি অংশ নিচ্ছে নাইজেরিয়া, জামাইকা ও জিম্বাবোয়ে। প্রতিটি দলই শক্তিশালী এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অভিজ্ঞ, ফলে ভারতের সামনে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে নাইজেরিয়ার মতো দলের বিরুদ্ধে খেলার সম্ভাবনা বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে ভারতীয় দলের জন্য। তাদের দলে রয়েছেন বিশ্বের অন্যতম দক্ষ আক্রমণভাগের ফুটবলার ভিক্টর ওসিমহেন ও আদেমোলা লুকম্যান। ফলে ভারতীয় রক্ষণভাগের উপর বাড়তি চাপ থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ইতিহাসও কিছুটা চ্যালেঞ্জিং ভারতের জন্য। শেষবার যখন ইংল্যান্ডে খেলতে গিয়েছিল ভারতীয় দল, তখন জামাইকার বিরুদ্ধে দুইটি ম্যাচ খেলেছিল তারা। একটি ম্যাচে তিন গোলে হারতে হয়েছিল, অন্যটি গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই এবার আরও ভালো ফলের লক্ষ্য নিয়ে নামবে দল।
এই প্রতিযোগিতার সূচি অনুযায়ী প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে নাইজেরিয়া ও জিম্বাবোয়ে। এরপর ভারতের প্রতিপক্ষ জামাইকা। যে দলগুলি জিতবে, তারা ফাইনালে খেলবে, আর বাকি দুই দল লড়বে তৃতীয় স্থান নির্ধারণের ম্যাচে। সব ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে চার্লটন অ্যাথলেটিক ক্লাবের ঘরের মাঠে, দ্য ভ্যালি স্টেডিয়ামে। বর্তমান ক্রমতালিকায় ভারত কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক জয় তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এই প্রতিযোগিতা ভারতের জন্য শুধু ফল নয়, ভবিষ্যতের প্রস্তুতির দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেই নিজেদের উন্নতি করার সুযোগ পাবে ভারতীয় ফুটবল দল।



















