কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর ঠিক এই হাইভোল্টেজ আবহেই রাজ্যে ফের কেন্দ্রীয় এজেন্সির বড়সড় তৎপরতা। রেশন বণ্টন দুর্নীতি মামলার তদন্তে শুক্রবার সাতসকালে কলকাতা সহ রাজ্যের ১২টি ঠিকানায় একযোগে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ভোটের ঠিক দু’সপ্তাহ আগে ইডির এই ‘অতিসক্রিয়তা’ রাজনৈতিক মহলের উত্তাপ একধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এদিন ভোর থেকেই কলকাতা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ এবং বনগাঁর একাধিক জায়গায় একযোগে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছেন ইডির আধিকারিকরা। এবারের অভিযানে মূলত শহরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তদন্তকারীদের র্যাডারে রয়েছেন। লর্ড সিনহা রোডের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি, মিন্টো পার্কে তাঁর একাধিক অফিস এবং পোদ্দার কোর্টের একটি অফিসে জোরদার তল্লাশি চলছে। জানা গিয়েছে, এই মামলায় এর আগে ধৃত এক অভিযুক্তকে জেরা করেই এই নতুন ব্যবসায়ীদের নাম ও রেশন দুর্নীতির কালো টাকার বিপুল নেটওয়ার্কের হদিস মিলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে নদিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৭৬২ কিলো আটার কালোবাজারির সূত্র ধরেই এই মেগা দুর্নীতির প্রথম পর্দাফাঁস হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, রেশনের প্রায় ২০-৪০ শতাংশ সামগ্রী সরিয়ে সরকারি সিলমোহর দিয়েই তা খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে দেওয়া হতো। এই ঘটনার তদন্তে নেমেই রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক থেকে শুরু করে বাকিবুর রহমান, শংকর আঢ্যের মতো হেভিওয়েটদের গ্রেপ্তার করেছিল ইডি। যদিও বর্তমানে তাঁরা জামিনে মুক্ত। তবে ভোটের মুখে ফের এই তল্লাশি প্রমাণ করছে, দুর্নীতির আসল মাথাদের চিহ্নিত করতে নাছোড়বান্দা কেন্দ্রীয় সংস্থা।




















