সান্তিয়াগো বের্নাব্যুতে এক সময় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীরা বহুবার দেখেছেন। সেই মঞ্চেই আবারও এক অসাধারণ গোলকিপিং পারফরম্যান্সের সাক্ষী থাকল বিশ্ব ফুটবল। এবার সেই নায়ক ম্যানুয়েল ন্যুয়ের (Manuel Neuer ) । ৪০ বছর বয়সেও তাঁর ক্ষিপ্রতা, আত্মবিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতা যেন নতুন করে চমকে দিল সবাইকে।
বায়ার্ন মিউনিখ-এর জার্সিতে তিনি কার্যত একাই থামিয়ে দিলেন রিয়াল মাদ্রিদ-এর আক্রমণভাগকে। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে ২-১ গোলে জয় পায় বায়ার্ন। কিন্তু স্কোরলাইন যতটা না চোখে পড়ে, তার থেকেও বেশি আলো কাড়ে ন্যুয়েরের পারফরম্যান্স। ম্যাচজুড়ে রিয়াল মাদ্রিদ একের পর এক আক্রমণ তুলেছিল। কিলিয়ান এমবাপে, ভিনিসিয়াস জুনিয়র, জুড বেলিংহ্যাম, ফেদেরিকো ভালভের্দে, প্রতিপক্ষ দলে এত তারকা থাকলেও গোলের সামনে যেন এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ন্যুয়ের।
ম্যাচের শুরু থেকেই রিয়াল আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে। প্রথমার্ধেই একাধিকবার গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় তারা। ১৫ মিনিটের মাথায় এমবাপের ক্লোজ় রেঞ্জ শট যেভাবে ন্যুয়ের রুখে দেন, তা ছিল অবিশ্বাস্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভিনিসিয়াসের বাঁক খাওয়া শটও দারুণ দক্ষতায় ঠেকান তিনি। এমবাপে বারবার চেষ্টা করেও ন্যুয়েরকে পরাস্ত করতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি দেখা যায়। বেলিংহ্যামের পাস থেকে এমবাপের শক্তিশালী শট, নিখুঁত হেড—সবকিছুই আটকে দেন ন্যুয়ের। ভালভের্দেও কয়েকবার চেষ্টা করেছিলেন দূরপাল্লার শটে, কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। পুরো ম্যাচে রিয়াল ২১টি শট নেয়, যার মধ্যে ১০টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু সেই ১০টির মধ্যে ৯টিই সেভ করেন ন্যুয়ের—যা প্রমাণ করে তাঁর আধিপত্য কতটা ছিল। ৪০ বছর বয়সে এই ধরনের পারফরম্যান্স সত্যিই বিরল। তাঁর রিফ্লেক্স, পজিশনিং এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখনও বিশ্বের সেরাদের মধ্যে পড়ে। এই পারফরম্যান্স শুধু ম্যাচ জেতানোর ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং বড় মঞ্চে তাঁর উপস্থিতির গুরুত্বও আবার সামনে নিয়ে এল।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, উয়েফা ইউরো ২০২৪-এর পর জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছিলেন ন্যুয়ের। এরপর থেকেই জার্মানি জাতীয় ফুটবল দল গোলকিপার সমস্যায় ভুগছে। মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেন চোট ও অনিয়মিত ফর্মে ভুগছেন, আর তরুণ অলিভার বাউমান এখনও অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—আসন্ন বিশ্বকাপে কি আবার জাতীয় দলে ফিরবেন ন্যুয়ের? ম্যাচ শেষে এই প্রসঙ্গে সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর দেন তিনি। জানিয়ে দেন, আপাতত বায়ার্নের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগেই তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ। জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে এখনই কিছু ভাবছেন না। তবে তাঁর এই পারফরম্যান্স যে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই যায়। ফুটবল দুনিয়া এখন অপেক্ষায়—অভিজ্ঞ এই গোলকিপার কি আবারও দেশের জার্সিতে মাঠে নামবেন?




















