কলকাতা: জামশেদপুরে বারবার মোহনবাগান (Mohun Bagan) সমর্থকদের উপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে সবুজ-মেরুন শিবিরে। সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার সরব হলেন ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত। তিনি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের চেয়ারম্যান সঞ্জীব গোয়েঙ্কার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
গত শনিবার জামশেদপুরে ম্যাচ দেখতে গিয়ে গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন মোহনবাগানের এক সমর্থক রাজীব রায়। অভিযোগ, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়ামের বাইরে তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। তাঁর মাথায় আঘাত লাগে এবং তাঁর পরনের জার্সিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে তাঁর সঙ্গে ছিলেন বন্ধু শুভময় জানা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ৮-১০ জনের একটি দল আচমকাই ওই সমর্থকদের উপর চড়াও হয়। এই ঘটনা নতুন নয়, বরং গত কয়েক বছরে একাধিকবার একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।
এই প্রেক্ষিতেই দেবাশিস দত্ত তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ২০২৩ সাল থেকে শুরু করে চলতি মরশুম পর্যন্ত যতবার মোহনবাগান সমর্থকরা জামশেদপুরে খেলা দেখতে গিয়েছেন, ততবারই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা শারীরিকভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামশেদপুর এফসি কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও বাস্তবে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখনও সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় তিনি সঞ্জীব গোয়েঙ্কাকে অনুরোধ করেছেন যেন তিনি ফেডারেশনের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেছেন মোহনবাগান সভাপতি। তাঁর মতে, যতদিন না পর্যন্ত অ্যাওয়ে দলের সমর্থকদের নিরাপত্তা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে, ততদিন জামশেদপুরের ওই স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন না করার কথাও বিবেচনা করা উচিত। কারণ, ফুটবল শুধুমাত্র খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আবেগ, সমর্থন এবং মানুষের নিরাপত্তা। এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে ভারতীয় ফুটবলে দর্শক নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। মাঠের ভেতরের লড়াই যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই মাঠের বাইরের পরিবেশও সমানভাবে সুরক্ষিত হওয়া জরুরি। সমর্থকেরা যাতে নিশ্চিন্তে খেলা উপভোগ করতে পারেন, সেই দায়িত্ব আয়োজক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরই।
সব মিলিয়ে, জামশেদপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোহনবাগান শিবিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা আর অস্বীকার করার উপায় নেই। এখন দেখার বিষয়, ফেডারেশন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।




















