ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট এখন চরমে। (Pakistan)এতই অর্থনৈতিক সংকট যে সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ঋণ শোধ করতে অস্বাভাবিক পথ বেছে নিয়েছে তারা। সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার বলিউডের বিতর্কিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর’-এর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, দেশজুড়ে ৭ হাজার স্ক্রিন বরাদ্দ করা হয়েছে এবং টিকিটের উপর ৬০ শতাংশ বিশেষ কর আরোপ করা হয়েছে। এই করের টাকা সরাসরি সৌদি-ইউএই ঋণ মেটানোর কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির সংস্কৃতি মন্ত্রী নাবিল গাবোল। একসময় তিনি এই ছবিকে নিষিদ্ধ করেছিলেন। এখন চরম সংকটে সেই ছুঁচো গিলতে হল নাবিল গাবোলকে।
নাবিল গাবোল এক অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা সিনেমাটিকে ‘ইউ’ সার্টিফিকেট দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, প্রত্যেক পাকিস্তানিকে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে যাতে ৩ বিলিয়ন ডলারের ইউএই ঋণ সময়মতো শোধ করা যায়।” এই ঘোষণা শুনে পাকিস্তানের অনেক নাগরিকই অবাক হয়েছেন। কারণ ‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি মুক্তির পর থেকেই পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ছিল। ছবিটিতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, লিয়ারি এলাকার অপরাধজগত এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কার্যকলাপ নিয়ে দেখানো হয়েছে, যা পাকিস্তান সরকার ‘অ্যান্টি-পাকিস্তান’ বলে মনে করেছিল।
আরও দেখুনঃ ভোটের মুখে ফ্রিতে ২ টি করে সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
ফলে ছবিটি থিয়েটারে মুক্তি পায়নি, কিন্তু পাইরেসির মাধ্যমে দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে দেখা হয়েছে।এখন হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিপুল সংখ্যক স্ক্রিন বরাদ্দ করার সিদ্ধান্তকে অনেকে ‘অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা’ বলে ব্যাখ্যা করছেন। পাকিস্তান বর্তমানে ইউএই-এর কাছে প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার ঋণে জড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক খবর অনুসারে, ইউএই এই ঋণ দ্রুত ফেরত চেয়েছে এবং কয়েকটি কিস্তি মাসিক রোলওভারের ভিত্তিতে চলছিল।
এই চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার নতুন আয়ের উৎস খুঁজছে। ৬০ শতাংশ টিকিট করের মাধ্যমে যে অর্থ উঠবে, তা সরাসরি ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।পাকিস্তানের সিনেমা হল মালিকরা এই সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। একদিকে ৭ হাজার স্ক্রিন বরাদ্দ পাওয়ায় ব্যবসার সম্ভাবনা বেড়েছে, অন্যদিকে ৬০ শতাংশ করের কারণে টিকিটের দাম অনেক বেড়ে যাবে। সাধারণ দর্শকদের পকেটে চাপ পড়বে।
তবে মন্ত্রী বলেছেন, জাতীয় দায়িত্ব পালনের জন্য সবাইকে এই ছোট ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, “এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি আমাদের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার একটি অংশ।”‘ধুরন্ধর’ সিনেমাটি ভারতে ব্লকবাস্টার হয়েছে। রণবীর সিং অভিনীত এই অ্যাকশন থ্রিলারটি ভারতীয় গোয়েন্দা অপারেশনের গল্প বলে। পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হওয়ার পরও এটি নেটফ্লিক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পাইরেটেড ভার্সনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এখন থিয়েট্রিক্যাল রিলিজ হলে কতটা দর্শক আকর্ষণ করবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকে বলছেন, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় কৌতূহল আরও বেড়েছে।




















