ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক ষড়যন্ত্র। (Pakistan crisis)একাধিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে ভারতে হামলা করা পাকিস্তান এখন প্রায় গৃহযুদ্ধের দোরগোড়ায়। এমনটাই মনে করছেন কূটনীতিকরা। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বদনাম তাদের। একটা সময় ভারতে জাল নোট পাঠিয়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছে, সেই পাকিস্তান আজ নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াই করছে। সেই সময় পাকিস্তানের অর্থনীতি কিছুটা স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু আজ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো।
দেশটিতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে, পেট্রল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে উঠেছে এবং সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে।সম্প্রতি পাকিস্তান সরকার পেট্রলের দাম করেছে লিটারপ্রতি ৪৫৮ টাকা, যা আগের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। ডিজেলের দামও ৫২০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সংক্রান্ত সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ অগ্নিবীর এমআর নিয়োগ ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত, আবেদন শুরু ১১ এপ্রিল থেকে
সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য স্কুল-কলেজ বন্ধ, সরকারি অফিসে চারদিনের কর্মসপ্তাহ এবং অন্যান্য কঠোর অস্ট্রিটি ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে খোলাখুলি স্বীকার করেছেন যে, তিনি এবং সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে ঘুরে অর্থ ভিক্ষা করছেন। তিনি বলেছেন, “আমরা যখন টাকা চাইতে যাই, তখন লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায়।
ঋণ নেওয়া আমাদের আত্মসম্মানের উপর বড় আঘাত।” এই কথাগুলো শুনে পাকিস্তানের অনেক নাগরিকই হতাশ হয়েছেন। একসময় যে দেশটি জঙ্গিবাদকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ভারতকে অস্থির করার চেষ্টা করত, আজ সেই দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিজের দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথা স্বীকার করে জনসমক্ষে কাঁদতে হচ্ছে।অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতাও চরমে।
জেলে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকরা বারবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন। দেশের বিভিন্ন অংশে অস্থিরতা বাড়ছে। কেউ কেউ বলছেন, এই পরিস্থিতি গৃহযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে। শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা রয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং দারিদ্র্যের হার বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ চরম আকার ধারণ করেছে।




















