নয়াদিল্লি: বিশ্ব অর্থনীতিতে গভীর ক্ষত তৈরি করছে দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ। যার মারাত্মক প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছে না ভারতও। দেশে ইতিমধ্যেই দেখা দিয়েছে বাণিজ্যিক এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের চরম সঙ্কট। চড়া দামে গ্যাস কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে, অশোধিত তেলের সঙ্কটের কালো মেঘ ঘনাচ্ছে ভারতের আকাশে। জ্বালানির এই সঙ্কটের সরাসরি কোপ পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর ওপর। বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির হার গত ৬ মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
৬ মাসে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি
রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্চ মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এফএও-র খাদ্য মূল্য সূচক মার্চ মাসে গড়ে ১২৮.৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪% এবং বার্ষিক ভিত্তিতে ১% বেশি। টানা দু’মাস আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির চাপকেই নির্দেশ করছে।
মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী? Iran war global inflation impact
এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো টোরোরোর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় কারণ হলো অপরিশোধিত তেলের দাম। পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ লাফিয়ে বাড়ছে। তেলের দাম বাড়ায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জৈব জ্বালানির চাহিদাও। পাশাপাশি, সারের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি কৃষকদের বীজ বপন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অশনিসংকেত।
কোন কোন জিনিসের দাম বাড়ছে?
জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রধানত গমের দাম ৪.৩% এবং ইথানলের প্রবল চাহিদার কারণে ভুট্টার দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। মাসিক ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে ভোজ্য তেলের (৫.১%)। পাশাপাশি, মাংসের দাম ১%, দুগ্ধজাত পণ্যের দাম ১.২% এবং চিনির দাম ৭.২% বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থার ওপর তার গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।




















