তেহরান: ইরানের কোহগিলুইয়েহ ও বয়ের-আহমাদ প্রদেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলে শুক্রবার একটি জোরালো প্রচার করা হচ্ছে। (Iran reward)ঘোষণায় বলা হয়েছে, “যে কেউ শত্রু পাইলট বা পাইলটদের জীবিত ধরে পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেবে, তাকে মূল্যবান পুরস্কার ও বোনাস দেওয়া হবে।” এই ঘোষণার পটভূমিতে ইরান দাবি করেছে যে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি আমেরিকান এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেছে এবং পাইলট ইজেক্ট করে প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায় অবতরণ করেছেন।
প্রাদেশিক টেলিভিশনের অ্যাঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে বলেন, “প্রিয় ও সম্মানিত কোহগিলুইয়েহ ও বয়ের-আহমাদ প্রদেশের জনগণ, সাহসী ও মর্যাদাসম্পন্ন ভাই-বোনেরা যদি আপনারা শত্রু পাইলট বা পাইলটদের জীবিত ধরে পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন, তাহলে আপনারা মূল্যবান পুরস্কার পাবেন।” ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় টেলিভিশনে একটি অন-স্ক্রিন টেক্সটও চালানো হয় যাতে বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলা হয় যে, আকাশে কোনো বিমান বা হেলিকপ্টার দেখলে তা লক্ষ্য করে গুলি করতে পারেন।
আরও দেখুনঃ জাতীয় মঞ্চে বাংলার গর্ব, ইমার্জিং ইন্ডিয়ার কোচ হলেন সৌরাশিস লাহিড়ী
পরে অবশ্য বার্তাটি সংশোধন করে শুধু জীবিত ধরিয়ে দেওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে পাইলটকে খুঁজে বের করার অভিযান শুরু করেছে। প্রদেশটি পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় অনুসন্ধান কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে যে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতিমধ্যে পাইলটকে আটক করেছে বলে কিছু প্রতিবেদনও ছড়িয়ে পড়েছে।
যদিও এটি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার খবর এসেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আমেরিকান যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে। অন্যদিকে আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখনও এই ঘটনা নিশ্চিত করে কোনো বিবৃতি দেয়নি, তবে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আমেরিকান পাইলট নিখোঁজ রয়েছেন এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।
প্রদেশের গভর্নরও ঘোষণা করেছেন যে, যারা শত্রু পাইলটকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ধরতে সক্ষম হবেন, তাদের বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকেও প্রায় ১০ বিলিয়ন তোমান (প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড) পুরস্কারের কথা শোনা যাচ্ছে। এই আবেদনের পর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ ক্র্যাশ সাইটের কাছে ভিড় জমিয়েছেন, আবার কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন।



















