ভারতের দেশীয় ‘তক্ষক’ টর্পেডো কর্মসূচি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) ডুবো হামলা চালানোর সক্ষমতা জোরদার করার জন্য এটি তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এটিকে সমুদ্র পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুসারে, এই পরীক্ষাগুলো কালভারি-শ্রেণির সাবমেরিনের ওপর পরিচালিত হবে, যা ইতোমধ্যেই নৌবাহিনীর বহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এরপর ২০২৭ সালে এর জীবন্ত ওয়ারহেড পরীক্ষারও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‘তক্ষক’ টর্পেডো কী?

‘তক্ষক’ হলো শত্রু সাবমেরিন ও জলজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তৈরি একটি দেশীয় ভারী টর্পেডো। এই টর্পেডো শত্রু সাবমেরিন শনাক্ত ও ধ্বংস করতে এবং পৃষ্ঠের জাহাজ আক্রমণ করতে পারে এবং এটি গভীর ও বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিবেশে কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করা এবং দেশীয় অস্ত্র ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।
২০২৬ সালের সমুদ্র পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
২০২৬ সালে নির্ধারিত গতিশীল সমুদ্র পরীক্ষা এই কর্মসূচির একটি প্রধান মাইলফলক হবে। এই পরীক্ষাগুলোর মাধ্যমে প্রকৃত সমুদ্র পরিস্থিতিতে টর্পেডোটিকে যাচাই করা হবে। নেভিগেশন, টার্গেটিং এবং প্রপালশন সিস্টেমগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন ডুবো পরিস্থিতিতে এগুলোর সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।
২০২৭ সালে জীবন্ত ওয়ারহেড পরীক্ষা
সমুদ্র পরীক্ষার পর ২০২৭ সালে একটি জীবন্ত ওয়ারহেড পরীক্ষা চালানো হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে টর্পেডোটির প্রকৃত প্রাণঘাতী ক্ষমতা যাচাই করা হবে। লক্ষ্যবস্তুর উপর এর নির্ভুলতা ও প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে এবং অভিযানিক ব্যবহারের জন্য এর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও)-র নেতৃত্বে এই কর্মসূচিটি তৈরি করা হচ্ছে।
‘তক্ষক’ টর্পেডো কেন প্রয়োজন?
আধুনিক নৌ-যুদ্ধে ডুবো অস্ত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘তক্ষক’-এর আগমন ভারতের ডুবোজাহাজ-বিরোধী যুদ্ধ (ASW) সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলবে। বিদেশি টর্পেডোর ওপর নির্ভরতা কমানো হবে। ভারত দ্রুত তার নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণ করছে। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় সাবমেরিন, উন্নত টর্পেডো এবং নজরদারি ব্যবস্থা।




















