
মুর্শিদাবাদ: মালদহে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনকে কড়া ভর্ৎসনা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এবার সেই নজিরবিহীন ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রেখে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকেই কাঠগড়ায় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের এক জনসভা থেকে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণার পর তাঁর হাত থেকে সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায় এখন একমাত্র কমিশনেরই।
নিশানায় নির্বাচন কমিশন
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর কাজে যুক্ত আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে কমিশন ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ হয়েছে বলে এদিন তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “মুখ্যসচিব এবং ডিজিপি এখন আর আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। আমার থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব এখন আপনাদেরই (কমিশনের)।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ভোট ঘোষণার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও পুলিশি পদে নিজেদের আধিকারিক বসিয়ে কার্যত গোটা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আমি জীবনে এমন নির্বাচন কমিশন দেখিনি!”
রাষ্ট্রপতি শাসনের চক্রান্তের অভিযোগ Mamata Banerjee blames EC
মালদহের ঘটনাকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ আখ্যা দিয়ে শীর্ষ আদালত আগেই রাজ্য প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছে। সেই আবহে এদিন বিজেপিকেও কড়া আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ভোট বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন (President’s Rule) জারির প্রেক্ষাপট তৈরি করতেই বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ধরনের অস্থির পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।
আধিকারিকদের ওপর ক্ষোভ
মালদহের ওই ঘেরাওয়ের ঘটনা সম্পর্কে তিনি যে বিন্দুবিসর্গ জানতেন না, এদিন সে কথাও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যসচিব আমাকে কিছুই জানাননি। আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমেই গোটা বিষয়টি জানতে পেরেছি। তারা রাজ্যকে অপমান করার চেষ্টা করেছে। আর কত অপমান আমাদের সহ্য করতে হবে?”

