কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন (WB Assembly Election) যত এগিয়ে আসছে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচারকৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। শুধু মিটিং-মিছিল নয়! এবার তাদের যুদ্ধক্ষেত্র সোশ্যাল মিডিয়া এবং বুথ স্তর পর্যন্ত। দলের নতুন উদ্যোগ ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ (ABDJ) এই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভবানীপুরের নির্বাচনী প্রচারে নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি ঘটানোর বার্তা শুভেন্দুর
কেন এই অভিযান?
তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত বছর ১৬ অক্টোবর একটি ভিডিও বার্তায় ‘আমি বাংলার ডিজিটাল যোদ্ধা’ কর্মসূচির সূচনা করেন। দলের মতে , সোশ্যাল মিডিয়ায় সমন্বিতভাবে বাংলার বিরুদ্ধে প্রচার চলছে। সেই প্রচারের জবাব দিতে এবং বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি-ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এই ডিজিটাল আন্দোলন শুরু করা হয়েছে।
কলকাতায় বড় সম্মেলন
১২ জানুয়ারি কলকাতার মিলন মেলায় বড় ডিজিটাল যোদ্ধা সম্মেলন হয়। আইটি সেলের সদস্য, ছাত্রনেতা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও দলীয় কর্মীরা সারাদিন ধরে প্রশিক্ষণ নেন। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স ছাড়াও চ্যাটজিপিটি, গ্রোক, জেমিনির মতো এআই টুল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: বিজেপির টিকিটের আশায় তৃণমূলের ব্রাত্য ৭৪ !
জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে কর্মসূচি
কেন্দ্রীয় পর্যায়ের পর এখন জেলায় জেলায় চলছে ABDJ সম্মেলন। এখনও পর্যন্ত হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান ও পশ্চিম বর্ধমানে এই কর্মসূচি হয়েছে। লক্ষ্য ব্লক ও বুথ স্তরে ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় উপাসনা চৌধুরীর নেতৃত্বে ন্যারেটিভ বিল্ডিং ও হ্যাশট্যাগ কৌশল নিয়ে প্রশিক্ষণ হয়। হাওড়ায় প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে আলাদা আলাদা অনুষ্ঠান হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের উপস্থিতিতে ডিজিটাল ও সাংগঠনিক কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়। পূর্ব বর্ধমানে মন্ত্রী-সাংসদদের বড় উপস্থিতি ছিল। পশ্চিম বর্ধমানে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, এআই কোর্স, মাইক্রোফোনসহ বাস্তব সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে।
বাংলার ভোটে ডিজিটাল যুদ্ধের নতুন অধ্যায়
এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে, বাংলার নির্বাচন আর শুধু রাস্তায় নয়, স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়াতেও চলছে। প্রতিটি পোস্ট, শেয়ার ও কমেন্ট এখন ভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে৷ তৃণমূল চাইছে কেন্দ্রীয় বার্তাকে স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছে দিয়ে একটি হাইব্রিড প্রচার মডেল তৈরি করতে। বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে এর অর্থ—যেকোনো খবর বা গুজবের জবাব এবার দ্রুত ও স্থানীয় ভাষায় আসবে।




















