নানুর: ভোটের আর মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা। তার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে বাংলায়। (Mamata Banerjee)একদিকে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, অন্যদিকে প্রতিশ্রুতির ঝড় বইছে ভোটের ময়দানে। এই আবহেই বুধবার বীরভূমের নানুরে এক বিশাল জনসভা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দোপাধ্যায়।
এদিনের সভায় তিনি যেমন বিরোধী বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন, তেমনই রাজ্যের কৃষকদের জন্য একাধিক নতুন সুবিধার কথা ঘোষণা করেন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ে তাঁর ঘোষণাই সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে। তিনি জানান, এতদিন কৃষকদের যে বিদ্যুতের বিল দিতে হত, এবার থেকে সেই খরচে ছাড় দেওয়া হবে। ফলে কৃষিকাজের খরচ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে যেখানে বছরে একবার ধান চাষ হত, এখন তা বেড়ে দু’বার হয়েছে। রাজ্য সরকার কৃষকদের উৎপাদিত ধান সরাসরি কিনে নেয়। প্রায় ৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন ধান আমরা সংগ্রহ করি, যা খাদ্যসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।” তিনি আরও জানান, আগে রেশন ব্যবস্থায় নিম্নমানের চাল দেওয়া হত, কিন্তু এখন চাষিদের উৎপাদিত ভালো মানের চালই রেশনে দেওয়া হচ্ছে। এতে যেমন কৃষকরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন, তেমনই উপকৃত হচ্ছেন সাধারণ মানুষও।
কৃষকদের সুরক্ষার জন্য একাধিক বিমা প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি। ধান চাষিদের জন্য ফসল বিমা রয়েছে, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বিমার জন্য কৃষকদের কোনও টাকা দিতে হয় না পুরোটাই বহন করে রাজ্য সরকার। আলু চাষিদের জন্যও রয়েছে ‘ক্রপ ইনসিওরেন্স’ সুবিধা।
শুধু তাই নয়, আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রেও নতুন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের আওতায় বছরে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয় কৃষকদের। এবার সেই সুবিধা আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। ক্ষেত মজদুরদের জন্য বছরে ৪০০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০০০ টাকা পাবেন নিবন্ধিত শ্রমিকরা এবং বাকি ২০০০ টাকা পাবেন ভাগচাষিরা। এছাড়াও, যাদের খুব অল্প জমি রয়েছে এমনকি মাত্র ১ কাঠা জমি থাকলেও তাঁদেরও এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই ঘোষণা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




















