কোচবিহার: নির্বাচনী জনসভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে ফের তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বুধবার কোচবিহার শীতলকুচি পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আসন্ন নির্বাচনে মানুষের রায়ই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ এবং সেই রায় বিজেপির বিরুদ্ধে যাবে বলেই তাঁর দাবি৷
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় শীতলকুচিতে ঘটে যাওয়া গুলিচালনার ঘটনা তুলে ধরেন৷ ওই ঘটনায় চারজন সাধারণ ভোটারের মৃত্যু হয়েছিল৷ তিনি বলেন, “সেই ঘটনা শুধু একটি দিন নয়, গণতন্ত্রের উপর আঘাতের প্রতীক হয়ে রয়েছে৷” তাঁর অভিযোগ, ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে নিরীহ মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছিল৷
এই প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় দাঁড় করান৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “ক্ষমতার রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের জীবনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি৷” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, এই ঘটনার রাজনৈতিক দায় কেন্দ্রের উপরই বর্তায়৷
অভিষেক আরও বলেন, সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন৷ তিনি বলেন, “এই মাটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাটি, এখানে মানুষ মাথা নোয়াতে শেখেনি৷”
সাম্প্রতিক ভোটের ফলাফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী সুরে কথা বলেন তিনি৷ তাঁর দাবি, শীতলকুচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ তিনি বলেন, “আপনারা যদি ভোটের দিন বুথে গিয়ে নিজের অধিকার প্রয়োগ করেন, তাহলে আগামী দিনে বিজেপির কোনও অস্তিত্ব এখানে থাকবে না৷”
সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “ভোটই আপনার শক্তি৷ সেই শক্তিকে ব্যবহার করুন, তাহলেই পরিবর্তন সম্ভব৷” তাঁর বক্তব্যে সমর্থকদের মধ্যে প্রবল উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়৷ গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক চাপ, ভয় দেখানো এবং সংঘর্ষের মধ্যেও যারা তৃণমূলের পতাকা উঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের ধন্যবাদ জানান অভিষেক৷ তিনি বলেন, “আপনাদের লড়াই এবং সাহসই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই লড়াই ভবিষ্যতেও চলবে৷”




















