কলকাতা: গতবারের পরিসংখ্যান (IP L2026) বলছে, দিল্লি ক্যাপিট্যালস ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে এবং লখনৌ সুপার জায়ান্টস ১২ পয়েন্ট নিয়ে সাত নম্বরে শেষ করেছিল। কিন্তু নতুন মরসুম মানেই নতুন গল্প। অতীতের হিসেব ভুলে এ বার দুই দলই শুরু করছে নতুন লক্ষ্য নিয়ে—প্রথম টার্গেট প্লে–অফ, আর চূড়ান্ত স্বপ্ন অবশ্যই ট্রফি। মাঠে নামার আগেই অবশ্য দুই শিবিরেই চোট সমস্যা কিছুটা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
লখনৌ পাবে না তাদের নির্ভরযোগ্য স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গাকে। অন্যদিকে দিল্লির হয়ে প্রথম দিকের কয়েকটি ম্যাচে দেখা যাবে না অজি তারকা মিচেল স্টার্ককে। ফলে দুই দলকেই পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।বাতবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ নিঃসন্দেহে লখনৌ অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। গতবার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে তিন নম্বরে নেমে অপরাজিত ১১৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই কি আজ নতুন মরসুম শুরু করবেন? তাঁর ব্যাটিং পজিশন ও আক্রমণাত্মক মেজাজ ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে, দিল্লির স্পিন আক্রমণের অন্যতম ভরসা কুলদীপ যাদব। পরিসংখ্যান বলছে, কুলদীপের বিরুদ্ধে খুব একটা স্বচ্ছন্দ নন পন্থ। তিনবার তাঁর শিকার হয়েছেন, ২৫ বলে তুলেছেন মাত্র ২৩ রান। ফলে পন্থ বনাম কুলদীপ লড়াই আজকের ম্যাচে আলাদা মাত্রা যোগ করবে। কুলদীপ কি আবারও পন্থকে চাপে ফেলবেন, নাকি লখনৌ অধিনায়ক পাল্টা আক্রমণে জবাব দেবেন—সেটাই দেখার। লখনৌ শিবিরে অবশ্য স্বস্তির খবর দিয়েছেন কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার। তরুণ পেসার মায়াঙ্ক যাদব সম্পূর্ণ ফিট এবং ম্যাচ খেলতে প্রস্তুত। তাঁর গতির ঝড় দিল্লির ব্যাটিং লাইনআপের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে।
দিল্লি দলে অবশ্য ম্যাচ জেতানোর মতো একাধিক ক্রিকেটার রয়েছেন। ট্রিস্টান স্টাবস, অক্ষর প্যাটেল এবং ডেভিড মিলার—এই তিনজনই ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারেন। পাশাপাশি নজর থাকবে তরুণ আকিব নবির উপর, যিনি সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে আলোচনায় এসেছেন। ম্যাচের ভেন্যু লখনৌর একানা স্টেডিয়াম। সাধারণত এখানে বড় রানের ইনিংস খুব বেশি দেখা যায় না। কিন্তু দুই দলের ব্যাটিং শক্তি বিচার করলে বলা যায়, আজকের ম্যাচে সেই ধারা বদলাতেও পারে। এতগুলো বিগ হিটার একসঙ্গে মাঠে নামলে রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে নতুন মরসুমের শুরুতেই এই ম্যাচ হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া—এখন দেখার, কে প্রথম ধাক্কাতেই এগিয়ে যায়।




















