ফুটবল বিশ্বকাপের (World Cup 2026) আবহ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, আর তার আগেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি সেরে নিচ্ছে বড় দলগুলি। সমর্থকদের আবেগ, খেলোয়াড়দের দায়বদ্ধতা সব মিলিয়ে এক অন্যরকম আবহ তৈরি হয়েছে বিশ্ব ফুটবলে। এর মধ্যেই ঘরের মাঠে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিল আর্জেন্টিনা। বুয়েনোস আইরেসের ঐতিহাসিক লা বোমবোনেরা স্টেডিয়ামে যেন উৎসবের রং লেগেছিল। আর সেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন লিওনেল মেসি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা ছিল দাপুটে মেজাজে। মাত্র চার মিনিটের মধ্যেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জুলিয়ান আলভারেজ। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধের শেষদিকে গোল করেন মেসি। পেনাল্টি পাওয়ার পরেও তিনি নিজে শট না নিয়ে সুযোগ করে দেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওটামেন্ডি-কে—যা ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল এবং শেষদিকে ভ্যালেন্টিন বার্কো-র গোল মিলিয়ে ৫-০ ব্যবধানে সহজ জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
তবে এই ম্যাচ শুধুমাত্র জয়ের জন্য স্মরণীয় নয়, বরং আবেগের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাচ শেষে মেসির চোখে জল যেন অনেক কিছু বলে দিল। সমর্থকদের স্ট্যান্ডিং ওভেশন, ‘মেসি মেসি’ ধ্বনিতে ভরে ওঠা স্টেডিয়াম—সব মিলিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়, এটাই সম্ভবত দেশের মাটিতে তাঁর শেষ ম্যাচ। আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর পর হয়তো আর নীল-সাদা জার্সিতে দেখা যাবে না এই কিংবদন্তিকে।
অন্যদিকে, সমান তালে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে ব্রাজিলও। নেইমার-কে ছাড়াই দারুণ ছন্দে খেলেছে দল। ভিনিসিয়াস জুনিয়র-এর নেতৃত্বে আক্রমণভাগ ছিল অত্যন্ত গতিময়। প্রথমার্ধের শেষদিকে তাঁর তৈরি করা সুযোগ থেকে গোল করেন দানিলো। যদিও ম্যাচের শেষভাগে লুকা মদরিচ-এর ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরায়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইগর থিয়াগো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলির গোল ব্রাজিলকে ৩-১ ব্যবধানে জয় এনে দেয়। এই পারফরম্যান্স প্রমাণ করে দেয়, নেইমার না থাকলেও ব্রাজিল যথেষ্ট শক্তিশালী।
এদিকে পর্তুগালও নিজেদের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখেনি। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো-কে ছাড়াই তারা ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় আমেরিকার বিরুদ্ধে। এতে বোঝা যাচ্ছে, তরুণদের উপর ভরসা রেখেই এগোচ্ছে দলটি।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আগে বড় দলগুলোর এই প্রস্তুতি ম্যাচগুলো শুধু ফলাফলের দিক থেকে নয়, মানসিক ও কৌশলগত দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও বিদায়ের আবেগ, কোথাও নতুন তারকার উত্থান, সবকিছু মিলিয়ে ফুটবল দুনিয়া এখন বিশ্বকাপের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।




















