মুর্শিদাবাদ: রাজ্য রাজনীতিতে ফের উৎকণ্ঠা। এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়৷ মাঝ আকাশ থেকেই কপ্টার ঘোরাতে বাধ্য হলেন পাইলট। কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়ে বড়ঞাতেই ফিরে আসে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। অবশ্য সভা বাতিল করেননি তিন৷ সড়কপথে নবগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মাঝ আকাশ থেকে ফিরল কপ্টার
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুর ২টো ১০ মিনিট নাগাদ বড়ঞার সভা সেরে কপ্টারে নবগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উড়ান দেওয়ার সময় বড়ঞার আবহাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকলেও, নবগ্রামের আকাশে পৌঁছতেই চরম প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার। প্রবল ঝড়বৃষ্টি এবং দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ার কারণে সভাস্থলের হেলিপ্যাডে অবতরণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পাইলট আর নামার ঝুঁকি নেননি। তিনি দ্রুত কপ্টারের মুখ ঘুরিয়ে ফের বড়ঞাতেই ফিরে আসেন এবং নিরাপদে অবতরণ করেন।
সড়কপথেই নবগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী
এই ঘটনার পর প্রথমে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়তো মুখ্যমন্ত্রীর নবগ্রামের জনসভা বাতিল হতে পারে। কিন্তু সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে জানা যায়, বড়ঞা হেলিপ্যাড থেকে সড়কপথেই গাড়িতে করে নবগ্রামের সভাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবারের স্মৃতি উসকে দিল এই ঘটনা
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই গত বৃহস্পতিবার প্রায় একইরকম ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বীরভূমের দুবরাজপুরে সভা সেরে অন্ডাল থেকে বিমানে কলকাতা ফিরছিলেন তিনি। বিকেল ৪টে নাগাদ কলকাতায় নামার কথা থাকলেও, আচমকা কালবৈশাখীর দাপটে দমদম বিমানবন্দরে নামতে পারেনি তাঁর বিমান। মাঝ আকাশে প্রায় দেড় ঘণ্টা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে চক্কর কাটার পর, বেহালা ফ্লাইং ক্লাবেও তিনবার নামার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বিমানটি। অবশেষে বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে দমদমে নিরাপদে অবতরণ করেন তিনি। শুক্রবার ওই বিমানের পাইলটদের উপস্থিত বুদ্ধি ও দক্ষতার প্রশংসাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের দুর্যোগের কবলে পড়ল মমতার কপ্টার।




















