কলকাতা/দিঘা: রবিবার দিঘার তালসারিতে সমুদ্রে তলিয়ে গিয়ে জনপ্রিয় টলিউড অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (৪৩) মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকস্তব্ধ গোটা বিনোদন জগৎ। সোমবার তমলুক হাসপাতালে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে জলে ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, সামনে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। অন্যদিকে, এই কঠিন সময়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তা বজায় রাখার আর্জি জানিয়েছেন অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার।
ফুসফুসে বালি ও জল, দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকার অনুমান
হাসপাতাল সূত্রের খবর, রাহুলের ফুসফুস ও খাদ্যনালিতে প্রচুর পরিমাণে বালি এবং নোনা জল মিলেছে। দীর্ঘ সময় ডুবে থাকার ফলে জল জমে ফুসফুস ফুলে প্রায় দ্বিগুণ আকারের হয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, খুব অল্প সময়ে এতটা জল জমা সম্ভব নয়। সম্ভবত অন্তত ঘণ্টাখানেক জলের তলায় ডুবে ছিলেন অভিনেতা। তবে ঘটনার সময় তাঁর শরীরে অ্যালকোহল ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ভিসেরা পরীক্ষাও করা হবে।
তদন্তে বাজেয়াপ্ত শুটিংয়ের ক্যামেরা
জানা গিয়েছে, ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং শেষে রবিবার দুপুরে একাই সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই শুটিংয়ের মূল ক্যামেরাটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, সারাদিনের শুটিংয়ের পর ওই ক্যামেরায় দুর্ঘটনার বেশ কিছু মুহূর্তও বন্দি থাকতে পারে, যা জট খুলতে সাহায্য করবে।
‘ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন’, আর্জি প্রিয়াঙ্কার
এই আকস্মিক বিপর্যয়ে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন পোস্টে তিনি লেখেন, “এটি আমাদের জন্য অপরিসীম শোক এবং গভীর হতাশার সময়। একটি শিশু, একজন মা এবং পরিবার একসঙ্গে এই শূন্যতা সামলে ওঠার চেষ্টা করছে। সংবাদমাধ্যমের বন্ধু ও সহকর্মীদের কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ, আমাদের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করুন এবং শান্তিতে শোক পালনের সুযোগ দিন।” ২০০৮ সালে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবির সেটে তাঁদের প্রেম ও পরে বিয়ে। মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চললেও ছেলে সহজের কথা ভেবে সম্প্রতি তাঁরা ফের এক হয়েছিলেন।
ময়নাতদন্তের পর সোমবারই তমলুক থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে রাহুলের শববাহী গাড়ি। সঙ্গে রয়েছেন তাঁর গাড়িচালক ও প্রোডাকশন ম্যানেজার-সহ বেশ কয়েকজন। জানা গিয়েছে, তমলুক থেকে দেহ সরাসরি রাহুলের বিজয়গড়ের বাড়িতে নিয়ে আসা হবে। এরপর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে এই গুণী অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।




















