কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় চমক এনে দিলেন কামদুনি (Tumpa Koyal)আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ টুম্পা কয়াল। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার, ২৯ মার্চ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিলেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা।
২০১৩ সালের বহুল আলোচিত কামদুনি গণধর্ষণ ও হত্যা মামলার পর থেকেই প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠেন টুম্পা কয়াল। গত ১২ বছর ধরে নিরন্তর আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। বিচার এবং নিরাপত্তার দাবিতে তাঁর সোচ্চার ভূমিকা তাঁকে সাধারণ মানুষের কাছে এক পরিচিত মুখ করে তুলেছিল। তবে এবার সেই আন্দোলনের মঞ্চ থেকে সরাসরি রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করলেন তিনি। সূত্রের খবর, এর আগেই গত ২১ মার্চ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন টুম্পা। সেই সময়ই দলে যোগদানের ইঙ্গিত মিলেছিল। অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘পদ্ম শিবিরে’ নাম লেখালেন তিনি।
আরও দেখুনঃমাঝরাতের মিসাইল হামলায় সস্ত্রীক প্রাণ গেল ইরানের বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানীর
দলে যোগ দেওয়ার পর টুম্পা বলেন, শুধুমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে সবসময় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় না। তাঁর কথায়, “বড় পরিবর্তন আনতে গেলে রাজনীতির ভিতরে ঢুকতে হয়। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।” তাঁর এই মন্তব্য স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়, তিনি এখন বৃহত্তর রাজনৈতিক মঞ্চে নিজের লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি কৌশলগতভাবেই টুম্পাকে দলে নিয়েছে। কারণ, নারী নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে। ফলে ভোটের আগে এই বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে প্রভাব ফেলতে পারে।
শুধু টুম্পা কয়ালই নন, এদিন আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক প্রবীর কুমার সিংহ এবং প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা শর্বরী ভট্টাচার্য। ফলে একদিনেই তিনজন পরিচিত মুখকে দলে টেনে এনে বিজেপি যে রাজনৈতিকভাবে শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তা স্পষ্ট।
এদিকে, সূত্রের খবর অনুযায়ী, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে টুম্পা কয়ালকে প্রার্থী করতেও পারে বিজেপি। সম্ভাব্য কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম কিংবা নিউটাউন এলাকা, যেখানে বর্তমানে তিনি বসবাস করেন। যদিও এ বিষয়ে দল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি।
তবে তাঁর এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একটি সামাজিক আন্দোলনের মুখ হিসেবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে আন্দোলনের উপর। আবার অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করে তিনি আরও বড় পরিসরে নিজের দাবি তুলে ধরতে পারবেন।




















