খড়গপুর: নির্বাচনের আগেই ফের রাজ্য রাজনীতিতে ছড়াল উত্তেজনা। (Dilip Ghosh)পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদর থেকে বিজেপি প্রার্থী এবং দলের প্রভাবশালী নেতা দিলীপ ঘোষ সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তোপ দেগেছেন। মমতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ ঘোষ বলেন, মুর্শিদাবাদে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট (সিএএ) এবং ওয়াকফ (সংশোধন) বিল পাসের পর যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পুরো দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
দিলীপ ঘোষের কথায়, “মুর্শিদাবাদে তিনি হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন সত্যিই অরাজকতা শুরু হল, তখন ক্ষমতা তাঁর হাতেই ছিল। হিন্দু পরিবারগুলোকে কেন ঘরছাড়া হতে হল? কেন তাঁরা ভয়ে মালদায় পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন? এর জবাব মমতাদিকে দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, রাজ্য সরকারের অপরিকল্পিত নীতি এবং একপেশে মনোভাবের কারণেই সীমান্তবর্তী জেলা মুর্শিদাবাদ বারবার অশান্তির আগুনে পুড়ছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ওয়াকফ সংশোধন বিল পাস হওয়ার পর মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সামসেরগঞ্জ, সুতি এলাকায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হয়। প্রতিবাদ ধীরে ধীরে সাম্প্রদায়িক হিংসায় রূপ নেয়। দোকানপাটে আগুন, লুটপাট, বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কয়েকজনের মৃত্যু হয়। বিজেপির অভিযোগ, এই হিংসায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় ৪০০-র বেশি হিন্দু নারী-পুরুষ-শিশু ভয়ে ভাগীরথী নদী পেরিয়ে মালদার বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নেন।
অনেকে এখনও সেখানে অস্থায়ীভাবে থাকছেন।দিলীপ ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বলেন যে বিল রাজ্যে চলবে না, তখনই একটা সিগন্যাল যায়। ফলে উগ্রপন্থীরা উৎসাহ পায়। প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকে। পুলিশ-প্রশাসনের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা সত্ত্বেও কেন এত বড় অঘটন ঘটতে দিলেন? এটা কি ইচ্ছাকৃত নাকি অক্ষমতা?” তিনি আরও যোগ করেন, মুর্শিদাবাদের ঘটনা শুধু একটি জেলার সমস্যা নয়, এটা পুরো রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
খড়গপুর সদরের এই প্রার্থী আরও বলেন, “বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে বাংলায়। হিন্দুরা নিরাপদ নয়। মন্দির ভাঙা, সম্পত্তি লুট এসব চলছে। মমতা সরকারের তোষণ নীতির জন্যই এই পরিণতি।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জবাব দেননি, তবে দলের অন্দরে আলোচনা চলছে।




















