শোনা যাবে চাঁদের স্পন্দন! ৪০০ কোটি বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা নীরবতার রহস্য ফাঁস

মানুষ চাঁদে পা রেখেছে, কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা এর ‘কণ্ঠস্বর’ শোনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আসন্ন আর্টেমিস অভিযানের জন্য, মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা (NASA) একটি নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
Moon

মানুষ চাঁদে পা রেখেছে, কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা এর ‘কণ্ঠস্বর’ শোনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের আসন্ন আর্টেমিস অভিযানের জন্য, মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা (NASA) একটি নতুন প্রযুক্তি তৈরি করেছে যা কোনো বড় আড়ম্বর ছাড়াই চাঁদের পৃষ্ঠের সামান্যতম নড়াচড়াও শনাক্ত করতে পারবে। একে চাঁদের ‘স্টেথোস্কোপ’ বলা যেতে পারে, যা অদৃশ্য লেজার এবং ফাইবার-অপটিক কেবল ব্যবহার করে কাজ করবে। এই একই ফাইবার-অপটিক কেবল আপনার বাড়িতে উচ্চ-গতির ইন্টারনেট নিয়ে আসে। বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছেন ‘ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাকোস্টিক সেন্সিং’ (ডিএএস)। আসুন, চাঁদে স্থাপন করার জন্য তৈরি এই ‘কান’ আবিষ্কারের গল্পটি সহজ ভাষায় জেনে নিন।

এই সিস্টেমটি কীভাবে কাজ করবে?
লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি দ্বারা উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিকে ডিস্ট্রিবিউটেড অ্যাকোস্টিক সেন্সিং (DAS) বলা হয়। এর জন্য কোনো ভারী যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় না। যে সরু তারগুলো আমাদের বাড়িতে ইন্টারনেট নিয়ে আসে, সেগুলোই চন্দ্রপৃষ্ঠ জুড়ে বিছিয়ে দেওয়া হবে। এই তারগুলোর মধ্য দিয়ে লেজার আলো প্রেরণ করা হবে। যখনই চাঁদের অভ্যন্তরে কোনো নড়াচড়া হবে (যেমন চন্দ্র ভূমিকম্প বা উল্কাপিণ্ডের আঘাত), ফাইবার তারগুলো সামান্য প্রসারিত হবে। লেজার রশ্মির এই সামান্য পরিবর্তন শনাক্ত করার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পারবেন গতিটি কতটা গভীর ও দ্রুত ছিল।

   

চাঁদে এর প্রয়োজন কেন?
চাঁদেও ভূমিকম্প হয়, যা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের বেস ক্যাম্পগুলোর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ স্থান নির্ধারণে সাহায্য করবে। ঠিক যেমন চিকিৎসকেরা শরীরের অভ্যন্তর দেখতে আল্ট্রাসাউন্ড ব্যবহার করেন, তেমনি এই লেজার তরঙ্গগুলো চাঁদের কেন্দ্র এবং ম্যান্টলের নির্ভুল চিত্র সরবরাহ করবে। এই প্রযুক্তি চাঁদের পৃষ্ঠের নীচে লুকানো বরফ বা মূল্যবান খনিজ ও সম্পদ সনাক্ত করতেও সাহায্য করতে পারে। সহজ কথায় বলতে গেলে, বিজ্ঞানীরা এখন চাঁদের জন্য একটি ‘স্টেথোস্কোপ’ তৈরি করছেন। এখন পর্যন্ত আমরা কেবল টেলিস্কোপের মাধ্যমেই চাঁদকে দেখতে পেয়েছি, কিন্তু এখন এই নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে তার কথা শোনার সময় এসেছে। এই প্রযুক্তি শুধু মহাকাশচারীদের সুরক্ষাই নিশ্চিত করবে না, বরং লক্ষ লক্ষ বছর আগে চাঁদের জন্ম কীভাবে হয়েছিল, তাও আমাদের জানাবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।

Follow on Google