নয়াদিল্লি: ২৭ মার্চ অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) আইএসএল, ফেডারেশন কাপ এবং মহিলা লিগের বাণিজ্যিক বিড খোলে। সেখানে চমক দেয় লন্ডনের সংস্থা জিনিয়াস স্পোর্টস। তারা আইএসএল ও ফেডারেশন কাপের জন্য প্রায় দুই হাজার একশো উনত্রিশ কোটি টাকার বিশাল প্রস্তাব দেয়। এই অঙ্ক অন্য প্রতিযোগী ফ্যানকোডের-এর প্রস্তাবের (প্রায় এক হাজার একশো নব্বই কোটি) প্রায় দ্বিগুণ। এমনকি এফএসডিএল এর আগের চুক্তির (প্রায় সাতশো পঞ্চাশ কোটি) থেকেও অনেক বেশি। এবার এক ঝলকে জিনিয়াস স্পোর্টস ও তাদের কর্মকাণ্ড সম্বন্ধে একটু জেনে নেওয়া যাক।
জিনিয়াস স্পোর্টস কী? খুব সহজ ভাষায় বললে, এটা একটা ক্রীড়া তথ্য আর প্রযুক্তির কোম্পানি। তারা সরাসরি খেলা খেলায় না, কিন্তু খেলার চারপাশে যে বিশাল ডেটা বা তথ্য তৈরি হয়—সেগুলো সংগ্রহ করে, বিশ্লেষণ করে, আর বিভিন্ন সংস্থার কাছে পৌঁছে দেয়। যেমন বড় বড় লিগ—ন্যাশনাল ফুটবল লিগ বা প্রিমিয়ার লিগ, এই ধরনের প্রতিযোগিতার সঙ্গেও তারা কাজ করে। ধরা যাক, একটা ফুটবল ম্যাচ হচ্ছে। ওই ম্যাচে কত পাস হল, কে কত দৌড়াল, কোথা থেকে শট নেওয়া হল, এই সব তথ্য তারা সংগ্রহ করে। তারপর সেই ডেটা ব্যবহার করে টিভি চ্যানেল, অ্যাপ, দল বা লিগ নিজেদের কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারে। তাই বলা যায়, তারা খেলার “পর্দার পিছনের” গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কোম্পানিটা নিজে বলে, তারা পুরো ক্রীড়া জগতের জন্য একটা বড় প্রযুক্তি পার্টনার হতে চায়। মানে, শুধু তথ্য দেওয়া নয়—খেলা কীভাবে আরও আকর্ষণীয় হবে, দর্শক কীভাবে বেশি যুক্ত হবে, সম্প্রচার কীভাবে আরও আধুনিক হবে—এসব দিকেও তারা কাজ করে।
কিন্তু এখানেই একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার আছে। তাদের আয়ের তিনটা বড় উৎস
- এক, ক্রীড়া প্রযুক্তি ও পরিষেবা
- দুই, মিডিয়া ও কনটেন্ট পরিষেবা
- তিন, বেটিং সংক্রান্ত প্রযুক্তি ও তথ্য পরিষেবা
এর মধ্যে শেষেরটাই, মানে বেটিং-সংক্রান্ত অংশ থেকেই তাদের সবচেয়ে বেশি টাকা আসে। তাই অনেকেই বলেন, যদিও তারা নিজেদের ডেটা কোম্পানি বলে, কিন্তু বেটিং ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে তাদের বড় যোগ আছে। এবার আসি ভারতের প্রসঙ্গে। ভারতে বেটিং বা জুয়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেআইনি। এই জন্য আছে পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট ,১৮৬৭ ( Public Gambling Act 1867, ) ভারতীয় নয়া সংহিতা , ২০২৩ ( Bharatiya Nyaya Sanhita 2023 ) আর ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যাক্ট ,২০০০ ( Information Technology Act 2000)। এই আইনগুলো ব্যবহার করে সরকার অনলাইন বেটিং আটকানোর চেষ্টা করে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রায় এক হাজার পাঁচশোর বেশি বেটিং সাইট আর অ্যাপ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই কারণেই এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে—যে কোম্পানির আয়ের বড় অংশ বেটিং থেকে আসে, তারা কি ভারতীয় ফুটবলের বাণিজ্যিক দায়িত্ব নিতে পারবে? তবে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের এক শীর্ষ কর্তা এম সত্যনারায়ণ বলছেন, এই ধারণাটা পুরো ঠিক নয়। তাঁর মতে, জিনিয়াস স্পোর্টস আসলে বেটিং কোম্পানি নয়, বরং তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করে—অনেকটা স্পোর্টস রাডার-এর মতো। সব মিলিয়ে বিষয়টা একটু জটিল। একদিকে তারা আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে খেলার উন্নতি করতে পারে, অন্যদিকে তাদের বেটিং সংযোগ নিয়ে প্রশ্ন আছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ফুটবলের দায়িত্ব কাদের হাতে যায়। তবে একটা কথা পরিষ্কার—বিদেশি বড় কোম্পানিগুলো এখনও ভারতীয় ফুটবল নিয়ে আগ্রহী, আর সেটাই ভবিষ্যতের জন্য একটা ইতিবাচক দিক।




















