
আহমেদাবাদ: গুজরাটের জামনগরের বদিনার টার্মিনালে পৌঁছেছে ভারতীয় এলপিজি ট্যাঙ্কার এমটি জগ বসন্ত।(MT Jag Vasant) দীর্ঘ ২৩ দিন হরমুজে আটকে থাকার পর জাহাজটি প্রায় ৪৭,০০০ মেট্রিক টন তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) নিয়ে এসেছে। যা দেশের রান্নার গ্যাস সরবরাহে বড় স্বস্তি এনে দিয়েছে। ডিনডায়াল পোর্ট অথরিটি (ডিপিএ) কান্দলার বদিনার টার্মিনালে জাহাজটি অ্যাঙ্করেজে নোঙর করেছে এবং শিগগিরই জাহাজ থেকে জাহাজে (Ship-to-Ship বা এসটিএস) স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
প্রায় ২৩ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে এই জাহাজটি হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে ভারতে পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীতে যান চলাচলের অনিশ্চয়তার মধ্যেও জাহাজটি নিরাপদে তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে। এই সফল যাত্রা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা ও নির্ভরযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ পরিবারের রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটাতে এই ধরনের আমদানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও দেখুনঃ নৌকায় চেপে গঙ্গাপাড়ের মন্দিরে চুরি, গ্রেফতার ৩ মহম্মদ-সহ ৪
বদিনার টার্মিনাল ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অফশোর অয়েল টার্মিনাল। গভীর জলের এই টার্মিনাল বড় বড় জাহাজ নোঙর করতে সক্ষম। এখানে এসটিএস অপারেশনের মাধ্যমে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে কার্গো স্থানান্তর করা হয়, যাতে সময় বাঁচে এবং সরবরাহ দ্রুত হয়। জগ বসন্তের কার্গো অন্য ছোট জাহাজে স্থানান্তর করে দেশের বিভিন্ন অংশে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যাবে। পোর্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অপারেশন নিরাপদ ও পরিকল্পনা অনুসারে চলবে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। সেখানে যান চলাচল ব্যাহত হলে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে প্রভাব পড়ে। তবে ভারতীয় জাহাজগুলো বিকল্প পথ ও সতর্কতার সঙ্গে যাত্রা করে সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। জগ বসন্তের ভারতে এসে পৌঁছনো এই প্রচেষ্টার সাফল্যের উদাহরণ।সাধারণ মানুষের জীবনে এলপিজি এক অপরিহার্য জিনিস। ইতিমধ্যেই এলপিজি সঙ্কটে ভুগছে সারা দেশ।
রান্নাঘর থেকে শুরু করে শিল্পের বিভিন্ন কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এই বড় চালানটি দেশের এলপিজি মজুত বাড়াতে সাহায্য করবে এবং বাজারে কোনো ঘাটতি যাতে না হয়, সেদিকে নজর রাখবে সরকার। পোর্ট অফিসিয়ালরা জানিয়েছেন, অপারেশন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে কার্গো দ্রুত স্থানীয় ডিপো ও ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পৌঁছে যাবে।

