নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং পরিবর্তিত যুদ্ধ কৌশলের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) তাদের দূরপাল্লার হামলা চালানোর সক্ষমতা জোরদার করছে। সূত্রমতে, সেনাবাহিনী এখন ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের একটি নতুন ও উন্নত সংস্করণ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা সূত্র অনুযায়ী, ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে বর্তমানে ৪৫০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, কিন্তু তারা এখন আরও অনেক বেশি পাল্লার পরবর্তী প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছে। এর ফলে শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডের গভীরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা সম্ভব হবে।
সূত্রমতে, এই প্রস্তাবটি শীঘ্রই প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা করা হবে। অনুমোদন পেলে, এটি ব্রহ্মোসের বর্ধিত পাল্লার সংস্করণের জন্য বৃহত্তম অর্ডার হতে পারে।
অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে অর্জিত আত্মবিশ্বাস
গত বছরের মে মাসে অপারেশন সিঁদুরের সময় ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি স্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনী বেশ কয়েকটি পাকিস্তানি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করেছিল। এই হামলাগুলোর সাফল্য ক্ষেপণাস্ত্রটির ওপর সেনাবাহিনীর আত্মবিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আধুনিক যুদ্ধে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং দূর থেকে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্রের গুরুত্বও তুলে ধরেছে। এখন সরাসরি যুদ্ধের চেয়ে দূর থেকে নিখুঁত আঘাত হানার ওপর বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
সেনাবাহিনীর মনোযোগ এখন ‘দূরপাল্লার ও ড্রোন শক্তির’ ওপর
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, দ্রুত, নির্ভুল এবং সময়োপযোগী জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী এখন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবস্থার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী, নেটওয়ার্কযুক্ত আক্রমণ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। সূত্রমতে, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে বর্তমানে ৪৫০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের রেজিমেন্ট রয়েছে। ৮০০ কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার ব্রহ্মোস-ইআর সংস্করণটি নির্মাণাধীন রয়েছে।
এতে রয়েছে একটি পরিবর্তিত র্যামজেট ইঞ্জিন, বর্ধিত জ্বালানি ধারণক্ষমতা এবং উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা। ভারতীয় সেনাবাহিনী এই ৮০০-কিমি রেঞ্জের সংস্করণটির জন্য একটি বড় অর্ডার দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে শীঘ্রই এই প্রস্তাবটি নিয়ে আলোচনা ও অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে।




















