নয়াদিল্লি, ২৭ মার্চ: আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ক্রমশ একটি অপরিহার্য অস্ত্র হয়ে উঠছে এবং তা এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) জন্য একাধারে শক্তি ও চ্যালেঞ্জ উভয়ই সৃষ্টি করছে। এর প্রতিক্রিয়ায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ড্রোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি নতুন পরীক্ষা কাঠামো তৈরি করেছে। এই ৩৪-পৃষ্ঠার খসড়াটি মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এই কাঠামোর উদ্দেশ্য শুধু ড্রোন পরীক্ষা করাই নয়, বরং হ্যাকিং, তথ্য চুরি এবং সাইবার আক্রমণ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ড্রোন তৈরি করা।
নতুন কাঠামোটির বিশেষত্ব কী?
নতুন নিয়ম অনুসারে, একটি ড্রোনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বিভিন্ন স্তরে চিহ্নিত ও পরীক্ষা করা হবে। এর মধ্যে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার উভয়েরই পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ক্রয় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে ড্রোনগুলোকে অবশ্যই এই পরীক্ষাগুলোয় উত্তীর্ণ হতে হবে:
- দুর্বলতা ও অনুপ্রবেশ পরীক্ষা
- এনক্রিপশন ও নিরাপদ বুট পরীক্ষা
- কোড স্বাক্ষর ও ফার্মওয়্যার যাচাইকরণ
এই সমস্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই ড্রোনটিকে সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সিস্টেমটি শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে
এই কাঠামোটি আরএফআই (তথ্য অনুরোধ) পর্যায় থেকেই বাস্তবায়ন করা হবে, যা নিশ্চিত করবে যে কোম্পানিগুলো শুরু থেকেই নিরাপদ এবং মানসম্মত ড্রোন তৈরি করে।
সবচেয়ে বড় ঝুঁকি কী?
এই কাঠামোতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, প্রতিপক্ষরা ড্রোনের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আড়ি পাততে পারে, ভুয়ো নির্দেশ পাঠাতে পারে, অথবা এর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারে। এছাড়াও, জিপিএস জ্যামিং ও স্পুফিং, ডেটা চুরি বা বিকৃতকরণ, এবং সাইবার দখলের মতো হুমকিগুলোর ওপরও আলোকপাত করা হয়েছে।
কোন অংশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
ড্রোনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়, যেমন:
- ফ্লাইট কন্ট্রোলার
- ফার্মওয়্যার
- জিপিএস/আইএনএস সিস্টেম
- সেন্সর এবং কমিউনিকেশন ইউনিট
- গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সফটওয়্যার
এগুলোর যেকোনো একটির দুর্বলতা পুরো ব্যবস্থাটিকে বিপন্ন করতে পারে।
চিনা যন্ত্রাংশের ব্যাপারে কঠোরতা
সেনাবাহিনী ইতোমধ্যে চিনা যন্ত্রাংশযুক্ত বেশ কয়েকটি ড্রোন চুক্তি বাতিল করেছে। এখন থেকে কোম্পানিগুলোকে এই মর্মে প্রত্যয়ন করতে হবে যে, তাদের ড্রোনগুলোতে কোনো চীনা যন্ত্রাংশ বা ক্ষতিকারক কোড নেই। তবে, মাইক্রোচিপ এবং যোগাযোগ সরঞ্জামের সম্পূর্ণ দেশীয় উৎপাদন বর্তমানে সম্ভব নয়, তাই প্রত্যয়ন ও পরীক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।
কোন কোন ড্রোনের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি প্রযোজ্য হবে?
আপাতত, এই কাঠামোটি মাইক্রো, মিনি এবং ছোট কোয়াডকপ্টার ও হেক্সাকপ্টারের মতো ছোট ড্রোনগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ভবিষ্যতে, এটি MALE এবং HALE সিস্টেমের মতো আরও বড় এবং উন্নত ড্রোনের ক্ষেত্রেও প্রসারিত করা হবে।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপকে ‘সিকিওর বাই ডিজাইন’ কৌশলের দিকে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য হলো দেশীয়, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ড্রোন তৈরি করা, যা ভবিষ্যতের যুদ্ধে ভারতের প্রযুক্তিগত শক্তি নিশ্চিত করবে।




















