নয়াদিল্লি,২৬ মার্চ: ট্যাঙ্কগুলির যুদ্ধক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ভারতীয় সেনাবাহিনী (Indian Army) তাদের ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টগুলিতে ড্রোন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং একটি নতুন শৌর্য স্কোয়াড্রন (Shaurya Squadron) চালু করেছে। ভবিষ্যৎ যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে যে, সেনাবাহিনী সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মার্কিন-ইজরায়েল-ইরান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত, অপারেশন সিঁদুর এবং গাজা সংঘাতের মতো সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো প্রমাণ করেছে যে, শুধুমাত্র ট্যাঙ্ক, কামান এবং পদাতিক বাহিনী দিয়ে যুদ্ধে জয়লাভ করা যায় না। পদাতিক ও গোলন্দাজ বাহিনীর পাশাপাশি, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া রেজিমেন্টগুলো এখন তাদের নিজস্ব ড্রোন ইউনিটও গঠন করছে। এগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে শৌর্য স্কোয়াড্রন। এদের উদ্দেশ্য হলো ট্যাঙ্কের যুদ্ধক্ষমতা বৃদ্ধি করা। সূত্রমতে, অপারেশন সিঁদুরের পর এই উদ্যোগটি আরও ত্বরান্বিত হয়েছিল। এর আগে পদাতিক বাহিনীতে আশনি প্লাটুনও গঠন করা হয়।
ছয়টি শৌর্য স্কোয়াড্রন প্রস্তুত, শক্তি প্রদর্শন
সূত্রমতে, সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে ছয়টি শৌর্য স্কোয়াড্রন প্রস্তুত করেছে, যেগুলোকে বিভিন্ন কমান্ডে মোতায়েন করা হচ্ছে। এই স্কোয়াড্রনগুলোর কাজ হলো শত্রুর ওপর নজরদারি চালানো, লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করা এবং ড্রোনের সাহায্যে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের বাবিনায় অনুষ্ঠিত ‘আমোগ জ্বালা মহড়া’য় এই বীর স্কোয়াড্রনগুলোর শক্তি প্রদর্শিত হয়েছে। এই মহড়ায় একই সাথে ট্যাঙ্ক, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন ব্যবহার করে বহু-ক্ষেত্রীয় যুদ্ধের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়।
শৌর্য স্কোয়াড্রন কী?
শৌর্য স্কোয়াড্রন হলো একটি কোম্পানি-স্তরের ড্রোন ইউনিট। সম্মুখ সমরে ট্যাঙ্কের ঠিক পাশাপাশি কাজ করাই এর দায়িত্ব। একটি সাঁজোয়া কোম্পানিতে প্রায় ১০-১২টি ট্যাঙ্ক এবং ১০০ জনেরও বেশি সৈন্য থাকে। জানা গেছে যে, এই স্কোয়াড্রনগুলোর সৈন্যদের বিশেষভাবে ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তারা নজরদারি ড্রোন, আক্রমণকারী ড্রোন এবং লোইটারিং মিউনিশনের মতো আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত। ড্রোনগুলো শুধু আক্রমণের জন্যই নয়, বরং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, মাইন স্থাপন ও অপসারণ, রসদ সরবরাহ এবং চিকিৎসা সহায়তার জন্যও ব্যবহার করা হবে। ট্যাঙ্কের সাথে ড্রোন সংযুক্ত করার মাধ্যমে সেনাবাহিনী শত্রুর অবস্থান, গতিবিধি ও অস্ত্রশস্ত্র সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাবে, যা আক্রমণগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলবে।
সেনাবাহিনী এখন আগামী বছরগুলিতে শৌর্য স্কোয়াড্রনের সংখ্যা আরও বাড়ানোর এবং ট্যাঙ্ক রেজিমেন্টগুলির শক্তি আরও শক্তিশালী করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমান সংঘাতগুলির পরিপ্রেক্ষিতে বলা হচ্ছে যে প্রতিটি যুদ্ধে ড্রোন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এগুলি খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে আধুনিক যুদ্ধের গতিপথই বদলে দিয়েছে। সুতরাং, সেনাবাহিনী এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তারা শুধু ট্যাঙ্ক বা সাঁজোয়া যানের ওপর নির্ভর করবে না, বরং ড্রোন সজ্জিত করে তাদের যুদ্ধক্ষমতাকে আরও মারাত্মক করে তুলবে।




















