কলকাতা: মহামেডানের বিরুদ্ধে সাত গোলের দুর্দান্ত জয়ের পর ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) শিবিরে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। মাঠে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসও ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এই উচ্ছ্বাসে গা ভাসাতে নারাজ কোচ অস্কার ব্রুজো। কয়েক দিন আগেই সমর্থকদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল, তাই বড় জয়ের পরেও বাস্তবতা ভুলতে চাইছেন না তিনি। বরং বারবার সতর্ক করে দিচ্ছেন, সামান্য ঢিলেমি এলেই পরিস্থিতি ঘুরে যেতে পারে।
এই মুহূর্তে ইন্টারন্যাশনাল বিরতির জন্য লিগ বন্ধ থাকায় দলকে কিছুটা বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ। টানা ম্যাচের চাপে ক্লান্ত ফুটবলারদের মানসিক ও শারীরিকভাবে চাঙ্গা করতেই এই পদক্ষেপ। আগামী ১১ এপ্রিল চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই বিরতি দলকে নতুন করে গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন তিনি। অস্কার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর লক্ষ্য বদলায়নি।
মরশুমের শেষে দলকে সেরা অবস্থানে পৌঁছে দেওয়াই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য। তাঁর বিশ্বাস, দল সেই পথেই এগোচ্ছে এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তার ইঙ্গিত মিলেছে। বিরতির পর দল আবার ছন্দে ফিরেছে বলেও মনে করছেন তিনি। তবে আত্মতুষ্টি যে বিপজ্জনক, সেটাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি কোচ। তাঁর মতে, সামনে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন লড়াই, তাই মাটিতে পা রেখেই এগোতে হবে।
ম্যাচের সময়সূচি প্রাইম টাইমে হওয়ায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলেও মনে করছেন অস্কার। কিন্তু সবকিছুই যে নিখুঁত, তা নয়। মহামেডানের বিরুদ্ধে বড় জয় এলেও আক্রমণভাগের ফিনিশিং নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। সাত গোলের মধ্যে তিনটি এসেছে পেনাল্টি থেকে, আর খোলা খেলায় বেশ কয়েকটি সহজ সুযোগ নষ্ট হয়েছে।
বিশেষ করে ইউসেফের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট। একাধিক সুযোগ পেয়েও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। ঠিকঠাক ফিনিশিং করতে পারলে এই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে গোলসংখ্যা বাড়ানো সম্ভব ছিল। এমনকি সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়েও তিনি আরও এগিয়ে যেতে পারতেন। সব মিলিয়ে, বড় জয়ের পরেও সতর্কতার সুরই শোনা যাচ্ছে কোচের গলায়। তাঁর মতে, শক্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জিততে হলে অল্প সুযোগকেও কাজে লাগাতে হবে। তাই এখন থেকেই আরও নিখুঁত প্রস্তুতি নিয়ে আগামী ম্যাচগুলোর জন্য তৈরি হতে চাইছে লাল – হলুদ বিগ্রেড।




















