কলকাতা: দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশক পর এশিয়ান কাপে (Asian Cup) খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল ভারতের মহিলা ফুটবল দল। এই সাফল্য নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক হলেও, প্রতিযোগিতার মঞ্চে সেই ছাপ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে দল। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হারের মুখ দেখতে হয়েছে তাদের, যার মধ্যে জাপানের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজয় বিশেষভাবে হতাশাজনক। মাঠের এই ব্যর্থতার পাশাপাশি দলের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তথা মহিলা ফুটবল কমিটির প্রধান ভালেঙ্কা আলেমাও সরাসরি সভাপতি কল্যাণ চৌবের কাছে এক বিস্ফোরক চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতা চলাকালীন দলের স্বার্থে এতদিন নীরব থাকলেও, এখন আর চুপ করে থাকা সম্ভব নয়।
গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং জবাবদিহি প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তিনি। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে কোচ পরিবর্তন নিয়ে। এশিয়ান কাপের ঠিক ছয় সপ্তাহ আগে আচমকাই দলের হেড কোচ বদলে অ্যামেলিয়া ভালভার্দেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অথচ যিনি দলকে এই পর্যায়ে তুলে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন, সেই ক্রিসপিন ছেত্রীকে সরিয়ে সহকারী কোচের পদে রাখা হয়। এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ভালেঙ্কা। তাঁর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন জরুরি—যা এখানে মানা হয়নি বলেই তাঁর অভিযোগ। এছাড়াও প্রস্তুতি শিবির নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চিনে অনুশীলনের পরিকল্পনা থাকলেও শেষমেশ তুরস্কে ক্যাম্প আয়োজন করা হয়। এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন, তা নিয়েও উত্তর চেয়েছেন তিনি। তবে সবচেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয় জার্সি বিতর্কে। প্রতিযোগিতা শুরুর মাত্র দু’দিন আগে দলের কাছে জার্সি পৌঁছয়, যা বেশিরভাগ ফুটবলারের গায়ে মাপমতো হয়নি। জানা যায়, ভুল করে বয়সভিত্তিক দলের জার্সি পাঠানো হয়েছিল। এমন বড় মঞ্চে নামার আগে এই ধরনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভালেঙ্কা। এই সমস্ত অভিযোগ ও প্রশ্নের নিরসনে অবিলম্বে কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে দলের স্বার্থে আরও পেশাদার ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।




















