কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মহিলা ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতা হল কন্যাশ্রী কাপ (Kanyashree Cup), যার আগের নাম ছিল ক্যালকাটা মহিলা ফুটবল লিগ। ১৯৯৩ সালে ভারতীয় ফুটবল সংস্থার উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয়। এটি দেশের প্রাচীনতম মহিলা ফুটবল লিগ হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছে। মূলত কলকাতার বিভিন্ন ক্লাব ও সংস্থা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে থাকে।
প্রথম বছরেই এই প্রতিযোগিতা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উদ্বোধনী আসরে আয়কর দফতরের দল বেহালা ঐক্য সম্মিলনীকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। তবে শুরুতে পর্যাপ্ত অর্থ এবং আগ্রহের অভাবে এই প্রতিযোগিতা নিয়মিতভাবে বড় আকারে আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। অনেক বছর এটি ছোট পরিসরে হয়েছে, আবার কিছু সময় সম্পূর্ণ বন্ধও ছিল। ফলে সেই সময়ের তথ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। পরবর্তীতে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে যখন বাংলার দুই বড় ক্লাব ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান মহিলা দল গঠন করে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করে। টানা দু’বছর এই দুই দল ফাইনালে ওঠে। ২০০১ সালে ইস্টবেঙ্গল এবং ২০০২ সালে মোহনবাগান চ্যাম্পিয়ন হয়। তবে জাতীয় স্তরে বড় কোনো প্রতিযোগিতার সুযোগ না থাকায় আর্থিক সমস্যার কারণে দুই ক্লাবই পরবর্তীতে তাদের মহিলা দল বন্ধ করে দেয়।
এই সময় আয়কর দল তাদের ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখে। এরপর দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালে আবার নতুন করে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ২০১৮ সালে সশস্ত্র সীমা বল দল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং সেই বছর থেকেই বিজয়ী দল জাতীয় মহিলা ফুটবল লিগে খেলার সুযোগ পায়। ২০২০ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে এই লিগের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় কন্যাশ্রী কাপ। একই বছর ইস্টবেঙ্গল আবার মহিলা দল গঠন করে এবং ফাইনালে ওঠে, যদিও সশস্ত্র সীমা বলের কাছে পরাজিত হয়। ২০২১ সালে মহামারির কারণে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি।
এরপর সশস্ত্র সীমা বল দল তাদের দাপট বজায় রাখে। তবে ২০২২ সালে ইস্টবেঙ্গল দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে সব ম্যাচ জিতে ফাইনালে শ্রীভূমিকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। ২০২৪ সালে এই প্রতিযোগিতায় নতুন সংযোজন হিসেবে দ্বিতীয় বিভাগ চালু হয়, যেখানে বহু ক্লাব অংশগ্রহণ করে। সব মিলিয়ে কন্যাশ্রী কাপ শুধু একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গে মহিলা ফুটবলের বিকাশ ও প্রসারের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।




















