নয়াদিল্লি: আজ সুপ্রিমকোর্টে এক বিরল ও কড়া বার্তা দিলেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত । (CJI Surya Kant)একটি মেডিক্যাল ভর্তি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে তিনি শুধু মামলার বিষয়বস্তু নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি, বরং বিচারব্যবস্থার মর্যাদা নিয়ে হস্তক্ষেপের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি জানান, সম্প্রতি এক ব্যক্তি তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই মামলায় তাঁর দেওয়া একটি আদেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই ঘটনায় স্পষ্টতই অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কেউ আমার ভাইকে ফোন করে জানতে চাইছে, আমি কীভাবে এই রায় দিলাম? তিনি প্রশ্ন করেন কেন তাঁর বিরুদ্ধে অবমাননার মামলা শুরু করা হবে না?” আদালতকক্ষে এই মন্তব্যের পরই তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।
আরও দেখুনঃ HAL-এর নতুন স্টিলথ ক্রুজ মিসাইল ধারণা বৃদ্ধি করবে এর প্রাণঘাতী ক্ষমতা
হরিয়ানা সরকারের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “সে কি আমাকে নির্দেশ দেবে আমি কীভাবে রায় দেব? বিষয়টি খতিয়ে দেখুন। এমনকি, আইনজীবী হিসেবে আপনার প্রথম কাজ হওয়া উচিত এই ধরনের আচরণ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া।” তাঁর এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতায় কোনওরকম হস্তক্ষেপ তিনি সহ্য করবেন না। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “সে যদি দেশের বাইরে গিয়েও লুকিয়ে থাকে, আমি জানি কীভাবে এমন লোকদের মোকাবিলা করতে হয়। গত ২৩ বছর ধরে আমি এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।” তাঁর এই বক্তব্য আদালতের প্রতি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে এক কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাটি সামনে আসে একটি বিতর্কিত হসপিটালে ভর্তি সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময়। মামলাটি ছিল সুপ্রিমকোর্টে দায়ের করা একটি আবেদনের উপর, যেখানে দুই আবেদনকারী নিখিল কুমার পুনিয়া ও একতা পুনিয়া বৌদ্ধ সংখ্যালঘু কোটা ব্যবহার করে পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, তাঁরা আগে জেনারেল শ্রেণিতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু পরে নিজেদের বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত দাবি করে সংখ্যালঘু কোটার সুবিধা নিতে চান। সংশ্লিষ্ট কলেজ, সুভারতী মেডিক্যাল কলেজ একটি স্বীকৃত বৌদ্ধ সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান, যা National Commission for Minority Educational Institutions দ্বারা অনুমোদিত। তবে উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি বিজ্ঞপ্তির পর তাঁদের ভর্তি স্থগিত হয়ে যায়, যার বিরুদ্ধে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। এই মামলাটি বিচার করতে গিয়ে বেঞ্চের সদস্যরা গোটা বিষয়টিকে অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেন।
প্রধান বিচারপতি সরাসরি বলেন, “এটি এক নতুন ধরনের প্রতারণা। আমাদের আরও কিছু বলতে বাধ্য করবেন না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে পুনিয়া জাট সম্প্রদায়ের মতো একটি সাধারণ শ্রেণির পরিবার হঠাৎ করে সংখ্যালঘু সার্টিফিকেট পেতে পারে, বিশেষ করে যখন তারা আগে বহুবার সাধারণ শ্রেণিতে আবেদন করেছে। সহবিচারপতি বিচারপতি বাগচিও এই বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “পরীক্ষার ঠিক আগে হঠাৎ করে বৌদ্ধ হয়ে গেল?” এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, আদালত ধর্মান্তর এবং তার সময়কাল নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান।



















