
নয়াদিল্লি: রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার ব্যবহারের দিন কি তবে ফুরিয়ে এল? কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক এক নির্দেশে অন্তত তেমনই ইঙ্গিত মিলছে। সরকারের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেসব এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে রান্নার গ্যাস বা পিএনজি (PNG) পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি রয়েছে, সেখানে এলপিজি (LPG) সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যদি কোনও গ্রাহক পিএনজি সংযোগ নিতে অস্বীকার করেন, তবে তাঁর বর্তমান এলপিজি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করা হবে বলে কড়া নির্দেশ জারি হয়েছে।
কেন এই কড়া পদক্ষেপ?
‘এসেনশিয়াল কমোডিটি অ্যাক্ট’-এর অধীনে জারি করা এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো ভারতের জ্বালানি নির্ভরতাকে বহুমুখী করা। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) আমদানিতে বড়সড় ধাক্কা লেগেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্রগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহে টান পড়েছে। সরকার চাইছে, যেসব এলাকায় পাইপলাইন রয়েছে সেখানে এলপিজি-র ব্যবহার কমিয়ে সেই সিলিন্ডারগুলি এমন দুর্গম এলাকায় পাঠাতে যেখানে এখনও পাইপলাইন পৌঁছায়নি।
নির্দেশিকার মূল পয়েন্টগুলি একনজরে
তিন মাসের সময়সীমা: পিএনজি সংযোগ নেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তির তারিখ থেকে ৯০ দিন সময় পাবেন গ্রাহকরা। এরপর এলপিজি জোগান বন্ধ হবে।
ছাড় কোথায়? যদি কোনও এলাকায় কারিগরি কারণে (Technically Infeasible) পাইপলাইন সংযোগ দেওয়া সম্ভব না হয়, তবেই এলপিজি সিলিন্ডার বজায় রাখা যাবে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার থেকে ‘এনওসি’ (NOC) নিতে হবে।
দ্রুত সংযোগ: আবাসন বা হাউজিং কমপ্লেক্সগুলিতে পাইপলাইন বসানোর আবেদন পাওয়ার ৩ দিনের মধ্যে অনুমতি দিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শেষ ধাপের সংযোগ (Last-mile connectivity) নিশ্চিত করতে হবে।
কড়া নজরদারি: পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ড (PNGRB) এই গোটা প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবে। কাজে দেরি হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার লাইসেন্স বাতিল পর্যন্ত হতে পারে।
রিফিল বুকিং নিয়ে গুজবে কান দেবেন না
এদিকে, রান্নার গ্যাসের রিফিল বুকিংয়ের সময়সীমা বদলেছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে খবর রটেছে, তা সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে মন্ত্রক। সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে-
১. উজ্বলা যোজনা বা সাধারণ গ্রাহক, কারোর জন্যই বুকিংয়ের নিয়মে বদল আনা হয়নি।
২. শহরে ২৫ দিন এবং গ্রামে ৪৫ দিন অন্তর রিফিল বুকিংয়ের বর্তমান নিয়মই বহাল থাকছে।
পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে অভয়বাণী
ভারত পেট্রোলিয়াম (BPCL) জানিয়েছে, দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের কোনও আকাল নেই। ভারত এই জ্বালানি রফতানি করে, তাই মজুত নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। তবে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে তেল, সার ও মুদ্রাস্ফীতির ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে সাতটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ দল গঠন করেছে কেন্দ্র।
সরকারের এই পদক্ষেপ মূলত শহরবাসীকে পাইপলাইন গ্যাসের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি কৌশল, যাতে সিলিন্ডার বুকিংয়ের ঝামেলা কমে এবং দেশের জ্বালানি সুরক্ষা মজবুত হয়। আপনি যদি পাইপলাইন যুক্ত এলাকায় থাকেন, তবে আজই সংযোগের জন্য আবেদন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।













