নয়াদিল্লি: হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত হলে আর তফশিলি জাতি বা ‘শিডিউলড কাস্ট’ (SC) হিসেবে গণ্য হবেন না কোনো ব্যক্তি। মঙ্গলবার একটি মামলার শুনানিতে এই ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি মনমোহনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সংবিধানের ১৯৫০ সালের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ধর্মান্তরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই একজন ব্যক্তি তাঁর তফশিলি জাতির অধিকার ও আইনি সুরক্ষা হারাবেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
অন্ধ্রপ্রদেশের জনৈক চিন্তাদা আনন্দ নামে এক ব্যক্তির দায়ের করা পিটিশনের ভিত্তিতে এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ওই ব্যক্তি পেশায় একজন খ্রিস্টান যাজক বা পাস্তর। তিনি কয়েকজনের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অভিযুক্তরা পাল্টা দাবি করেন, যেহেতু আনন্দ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে যাজক হিসেবে কাজ করছেন, তাই তিনি আর এসসি (SC) আইনের সুরক্ষা পেতে পারেন না।
সুপ্রিম কোর্ট অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের আগের রায়কেই বহাল রেখেছে। আদালত জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের সাংবিধানিক নির্দেশিকার ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হিন্দু, শিখ ও বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর তফশিলি জাতির অন্তর্ভুক্ত থাকেন না। জন্মগতভাবে তিনি যে জাতেরই হোন না কেন, ধর্মান্তরের পর সেই পরিচয় আর কার্যকর থাকে না।
এসসি সার্টিফিকেট থাকলেও মিলবে না সুবিধা SC status religion conversion ruling
আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, যদি কোনো ব্যক্তির কাছে এসসি সার্টিফিকেট থেকেও থাকে, কিন্তু তিনি সক্রিয়ভাবে অন্য ধর্ম (যেমন খ্রিস্টান বা ইসলাম) পালন করেন, তবে সেই সার্টিফিকেটের কোনো আইনি বৈধতা থাকবে না। কারণ, যে ধর্মে জাতিভেদ প্রথা স্বীকৃত নয়, সেখানে ধর্মান্তরিত হওয়ার অর্থই হলো নিজের পুরনো জাতিগত পরিচয় ত্যাগ করা।
বিচারপতিদের কথায়, “এই মামলায় আবেদনকারী পুনরায় নিজের আদি ধর্মে ফিরে আসেননি বা তাঁর পুরনো সম্প্রদায় তাঁকে গ্রহণ করেছে এমন কোনো প্রমাণও নেই। তিনি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে যাজক হিসেবে কাজ করছেন, যা প্রমাণ করে তিনি এখন খ্রিস্টান।”
এই রায়ের গুরুত্ব
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এখন থেকে তফশিলি জাতিভুক্ত কেউ যদি খ্রিস্টান বা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন, তবে তিনি নিম্নোক্ত সুবিধাগুলি হারাবেন-
- সংরক্ষণ: সরকারি চাকরি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসসি কোটার সুবিধা পাবেন না।
- আইনি সুরক্ষা: তফশিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে কোনো মামলা করার অধিকার থাকবে না।
- নির্বাচনী সুবিধা: সংরক্ষিত আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার হারাবেন।
ধর্ম ও জাতির অধিকার নিয়ে চলা দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ে এই রায় একটি বড় মাইলফলক। এর ফলে ভবিষ্যতে ধর্মান্তকরণ এবং জাতিগত সংরক্ষণের সুবিধা নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতাগুলি নিরসনে বড় ভূমিকা নেবে শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশ।




















