খড়গপুর: রাজনীতির ময়দানে তিনি বরাবরই ‘আনফিল্টারড’। ঠোঁটকাটা স্বভাব আর কড়া ভাষায় প্রতিপক্ষকে ঘা দেওয়া তাঁর পুরনো দস্তুর। ঘরের ছেলে ঘরে ফিরতেই ফের সেই চেনা ‘দাবাং’ মেজাজে ধরা দিলেন দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর সদর আসনের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রচারের প্রথম দিনেই রণংদেহি মেজাজে পুলিশ ও তৃণমূলকে কার্যত তুলোধনা করলেন মেদিনীপুরের এই ভূমিপুত্র।
“বাপের গুলি দেখাস না!”: আইসি-কে চরম হুঁশিয়ারি
সোমবার খড়গপুর টাউনে প্রচার সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেজাজ হারান দিলীপ ঘোষ। অভিযোগ করেন, স্থানীয় থানার আইসি বিজেপি কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছেন। মঞ্চ থেকে মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আইসি আমাদের কর্মীদের তুলে নিয়ে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, তৃণমূলের হয়ে কাজ না করলে ৪ তারিখের পর গুলি মারবে! কার বাপের গুলি রে? তোর কাছে ক’টা গুলি আছে? এমন আওয়াজ দেখাব যে ভয়ে প্যান্ট ভিজে যাবে!”
তৃণমূল জমানায় পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করে দিলীপের সংযোজন, “বড় বড় গুন্ডা-মাফিয়া দেখেছি। খড়গপুরের ডাকাতদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি আমি। এইসব দাদাগিরি দিলীপ ঘোষকে দেখিয়ে লাভ নেই।”
‘হিসাব হবে সমান সমান’ Dilip Ghosh Kharagpur speech
২০১৬ সালে এই খড়গপুর সদর থেকেই বিধায়ক হয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল দিলীপ ঘোষের। মাঝে ২০২১-এ এই আসনে লড়েছিলেন অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে দল ফের ভরসা রেখেছে পুরনো সেনাপতির ওপর। আর পুরনো ময়দানে ফিরেই দিলীপ মনে করিয়ে দিলেন তাঁর আমলের ‘শাসন’। তিনি বলেন, “আগে যখন বিধায়ক ছিলাম, সব গুন্ডার হিসাব কিতাব সমান করে দিয়েছিলাম। এবারও ফিরছি, এমন হিসাব মেলাব যে কেউ কুলকিনারা পাবে না।”
খড়গপুরে কেন ফিরলেন দিলীপ?
রাজনৈতিক মহলের মতে, খড়গপুর সদরের বিদায়ী বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে দলের অন্দরেই ক্ষোভ দানা বেঁধেছিল। একাধিক বিতর্কে বিদ্ধ হিরণকে সরিয়ে তাই অভিজ্ঞ দিলীপ ঘোষকেই সেনাপতি করে পাঠিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। আর প্রত্যাশিতভাবেই, টিকিট পাওয়ার পর খড়গপুরের মাটিতে পা দিয়েই নিজের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে চেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতেই প্রচার শুরু করলেন তিনি।
দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তৃণমূলের দাবি, হার নিশ্চিত জেনে এখন প্রলাপ বকছেন বিজেপি প্রার্থী। সব মিলিয়ে, দিলীপের ‘ঝাঁজালো’ এন্ট্রিতে খড়গপুরের নির্বাচনী পারদ যে অনেকটাই চড়ে গেল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।




















