পূর্ব মেদিনীপুর: বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র বরাবরই হাইভোল্টেজ। (Nandigram)সম্প্রতি বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য পবিত্র কর তৃণমূলে যোগদান করে টিকিট পেয়েছেন। নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর বিপক্ষে লড়াই করতে দেখা যাবে তাকে। এই আবহেই ফের দলবদলের হিড়িক নন্দীগ্রামে। এবার তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য দেবাশীষ দলপতি। এই যোগদানে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। দেবাশীষ দলপতি গোকুলনগর এলাকার একজন পরিচিত মুখ।
তিনি তৃণমূলের হয়ে পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে কাজ করছিলেন। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ, স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে মতভেদ এবং রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কারণে তিনি বিজেপির দিকে ঝুঁকেছেন বলে সূত্রের খবর। যোগদানের সময় তিনি বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির আদর্শ, উন্নয়নমুখী রাজনীতি এবং রাষ্ট্রবাদী চিন্তাধারায় অনুপ্রাণিত হয়ে আমি দলে যোগ দিলাম।
আরও দেখুনঃ জাতীয় নিরাপত্তায় ধাক্কা! বিজেপি শাসিত রাজ্যের বিমানবন্দরে কর্মরত পাক গুপ্তচর
নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য আরও ভালো কাজ করতে চাই।” শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, “দেবাশীষ দলপতি মহাশয়কে আমাদের রাষ্ট্রবাদী দলে স্বাগত জানাই। নন্দীগ্রামের উন্নয়ন ও জনগণের সেবায় তাঁর অভিজ্ঞতা আমাদের শক্তি যোগাবে।” নন্দীগ্রামের রাজনীতি সবসময়ই উত্তপ্ত। ২০০৭-এর জমি আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২১-এর নির্বাচনে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে হারিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর জয়, সব সময়েই এই কেন্দ্র সবসময় আলোচনায় থেকেছে। এবারও নির্বাচনের আগে দলবদলের ঘটনা বাড়ছে।
পবিত্র করের তৃণমূলে যোগদানের পর বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। তাঁর বাড়ির সামনে মিছিল করে ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে দেবাশীষের যোগদানে তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতারা বলছেন, “এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, দলের ভিত মজবুত।”
এই দলবদল নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক ময়দানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে তৃণমূল পবিত্র করের মতো প্রভাবশালী নেতাকে দলে টেনে নিয়ে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। অন্যদিকে বিজেপি দেবাশীষের মতো স্থানীয় নেতাকে পেয়ে নন্দীগ্রামের মত হাইভোল্টেজ এলাকায় নিজেদের শক্তি বাড়াচ্ছে।




















