ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের প্রাক্তন ভারতীয় হাইকমিশনার আব্দুল বাসিত (Abdul Basit)একটি অত্যন্ত উত্তেজক এবং প্ররোচনামূলক বিবৃতি দিয়ে বিতর্কে। তিনি ভারতকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল কখনও পাকিস্তান বা তার পারমাণবিক স্থাপনায় আক্রমণ করে, তাহলে ভারতকে ২৬/১১-এর মতো হামলার মুখোমুখি হতে হবে। এই মন্তব্য একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এসেছে, যা ভাইরাল হয়ে গেছে এবং ভারতীয় রাজনৈতিক-সামরিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
আব্দুল বাসিত, যিনি ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ছিলেন, একটি পাকিস্তানি চ্যানেলে বলেছেন, “যদি আমেরিকা পাকিস্তান আক্রমণ করে এবং আমরা তাদের গাল্ফের ঘাঁটি বা ইসরায়েলে পৌঁছাতে না পারি, তাহলে আমাদের একমাত্র বিকল্প কী? ভারত।” তিনি আরও যোগ করেছেন, “আমাদের কিছু করার থাকবে না। রেঞ্জ না থাকলেও, যদি কেউ আমাদের দিকে শত্রু দৃষ্টিতে তাকায়, তাহলে আমরা দ্বিধা করব না ভারতকে আক্রমণ করব।
মুম্বাই, নয়াদিল্লি আমরা পিছপা হব না।” এই কথায় তিনি স্পষ্টভাবে ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার (২৬/১১) স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছেন, যেখানে লস্কর-ই-তৈয়বার জঙ্গিরা ১৬৬ জনকে হত্যা করেছিল।এই বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার গোয়েন্দা রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, এবং কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন যে পাকিস্তান তার নিউক্লিয়ার অস্ত্রকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘প্রথম ব্যবহার’-এর নীতি হিসেবে রেখেছে।
বাসিতের কথায় সেই মানসিকতা ফুটে উঠেছে যেখানে দূরের শত্রুর সঙ্গে লড়াই না করে কাছের প্রতিবেশী ভারতকে লক্ষ্য করা হবে। অনেকে বলছেন, এটা পাকিস্তানের ‘ইন্ডিয়া-ফোবিয়া’ বা ভারত-ভীতির প্রকাশ। একজন ভারতীয় বিশ্লেষক কটাক্ষ করে বলেছেন, “তাদের একমাত্র ভয় ভারত। Sick Qaum।”ভারতে এই মন্তব্যকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়া চ্যানেলে আলোচনা চলছে যে এটা পাকিস্তানের প্রকৃত মানসিকতার প্রতিফলন।
একজন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, “এটা শুধু কথার কথা নয়, এতে হাইব্রিড হুমকির আশঙ্কা রয়েছে সন্ত্রাসবাদ, সাইবার আক্রমণ বা এমনকি পারমাণবিক ছায়া।” ভারত সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, কিন্তু সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ভারতীয় নেটিজেনরা ক্ষুব্ধ অনেকে বলছেন, “পাকিস্তানের অস্তিত্বই ভারতের জন্য হুমকি।”



















