দুবাই-শারজাহ উপকূলের কাছে নোঙর করে রয়েছে দুটি ভারতীয় পতাকাঙ্কিত এলপিজি (Indian LPG carriers) ক্যারিয়ার জাগ ভাসন্ত এবং পাইন গ্যাস। শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এই দুটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাত্রা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ-উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। সবচেয়ে বড় কথা গত ২৪ ঘন্টায় কোনো ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি, সেখানে দাঁড়িয়ে ভারতের এই পদক্ষেপ নিশ্চিত ভাবেই একটি সাহসী পদক্ষেপ।
রয়টার্স-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাগ ভাসন্তকে ভারতের ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (বিপিসিএল) এবং পাইন গ্যাসকে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (আইওসি) চার্টার করেছে। দুটি জাহাজই শারজাহের কাছে পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে এবং মেরিনট্র্যাফিক ডেটায় দেখা যাচ্ছে, তারা যাত্রার জন্য প্রস্তুতি সংকেত দিচ্ছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে হয়তো শনিবার থেকেই এরা যাত্রা শুরু করতে পারে।
এটি ভারতের জন্য একটা বড় স্বস্তির খবর, কারণ দেশের এলপিজি সরবরাহের বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়েই যায়।হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটগুলোর একটি। এখান দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০-২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যাতায়াত করে, যা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার চলতে থাকা যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ।
ইরানি হুমকি, জাহাজে হামলা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের জেরে বেশিরভাগ শিপিং কোম্পানি যাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো ক্রুড অয়েল ট্যাঙ্কার এই পথ অতিক্রম করেনি এটাই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি কতটা সংকটময়। অনেক জাহাজ উপসাগরে আটকে পড়েছে, যার মধ্যে ভারতের ২২টি জাহাজও রয়েছে, যার মধ্যে এলপিজি, এলএনজি এবং ক্রুড অয়েল ক্যারিয়ার অন্তর্ভুক্ত।ভারত সরকার এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক চাপ দিয়ে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিভিন্ন বিশ্ব নেতার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিরাপদ পথের দাবি জানিয়েছেন। ভারতের শিপিং মন্ত্রণালয় এবং বিদেশ মন্ত্রক মিলে জাহাজ মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। কয়েকদিন আগে শিভালিক এবং নন্দা দেবী নামে দুটি ভারতীয় এলপিজি ক্যারিয়ার নিরাপদে হরমুজ অতিক্রম করে গুজরাটের বন্দরে পৌঁছেছে, যা ৯২,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি এলপিজি নিয়ে এসেছে। এই সাফল্যের পর জাগ ভাসন্ত এবং পাইন গ্যাসের যাত্রা আরও আশা জাগিয়েছে।




















