জ্যোতির্মঠের শঙ্করাচার্য হিসেবে পরিচিত অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী (Shankaracharya)সম্প্রতি ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন যে, একজন আরএসএস প্রচারক তাঁকে জানিয়েছেন, ‘মুসলিম মঞ্চের ‘- মাধ্যমে প্রায় ১০ লক্ষ হিন্দু মেয়েকে মুসলিম পরিবারে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই দাবি অনুসারে, এটা একটা সংগঠিত ষড়যন্ত্র, যার লক্ষ্য হিন্দু সমাজের মেয়েদের ধর্মান্তরিত করা এবং জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্ট করা।
অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী হলেন একজন প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা, যিনি হিন্দু ধর্মের রক্ষণশীল অংশে বেশ জনপ্রিয়। তিনি বিভিন্ন সময়ে সমাজের বিষয়ে মতামত দিয়েছেন, কিন্তু তাঁর অনেক বক্তব্য বিতর্কিত হয়েছে। এই ‘লাভ জিহাদ’ দাবিটি তাঁর সাম্প্রতিক একটি বক্তৃতা বা সাক্ষাৎকারে এসেছে, যেখানে তিনি বলেছেন যে, আরএসএসের এক প্রচারক তাঁকে এই তথ্য দিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ বাড়বে নজরদারি ক্ষমতা! ৬টি নতুন Netra বিমান কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত
‘মুসলিম মঞ্চ’ বলতে সম্ভবত আরএসএস-সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠন বা ফ্রন্টের কথা বলা হয়েছে, যা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কাজ করে। কিন্তু এই সংখ্যা ১০ লক্ষ অত্যন্ত বড় এবং অবিশ্বাস্য। ভারতের জনসংখ্যা অনুযায়ী, এত বিপুল সংখ্যক আন্তঃধর্মীয় বিয়ে হলে তা জাতীয় পর্যায়ে নজরে পড়ত এবং সরকারি তথ্য বা আদালতের রেকর্ডে প্রতিফলিত হত।’লাভ জিহাদ’ একটা দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ধারণা।
হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো দাবি করে যে, মুসলিম যুবকরা হিন্দু মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে এবং ধর্মান্তরিত করে। এই থিয়োরি অনেক রাজ্যে আইনও হয়েছে, যেমন উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশে অ্যান্টি-কনভার্সন ল। কিন্তু জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) এবং অনেক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, এটি একটা কনস্পিরেসি থিয়োরি কোনো সংগঠিত প্রমাণ নেই। ভারতের জনসংখ্যা অনুযায়ী হিন্দু ৮০% এবং মুসলিম ১৪% এর কাছাকাছি, এবং আন্তঃধর্মীয় বিয়ের সংখ্যা খুব কম।
এই ধরনের দাবি প্রায়ই অতিরঞ্জিত হয়ে সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় এবং বিভাজন তৈরি করে।শঙ্করাচার্যের এই দাবির পর অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। কেন একজন আরএসএস প্রচারকের কথা এত বড় সংখ্যা দিয়ে উল্লেখ করা হল? এর পিছনে কি কোনো প্রমাণ আছে? অনেক সমালোচক বলছেন যে, এটা ধর্মীয় নেতাদের পক্ষ থেকে সম্প্রদায়কে একত্রিত করার চেষ্টা, কিন্তু তথ্যহীন দাবি সমাজে অস্থিরতা বাড়ায়।
অবিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে অতীতেও বিতর্কিত অভিযোগ উঠেছে, যেমন কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ে, যা তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তিনি নিজে অনেক সময় হিন্দু ধর্ম রক্ষার কথা বলেন, কিন্তু এ ধরনের দাবি প্রমাণ ছাড়া ছড়ালে তা বিপরীত ফল দিতে পারে।এই ঘটনা আবারও দেখিয়েছে যে, ‘লাভ জিহাদ’ নিয়ে আলোচনা ভারতে কতটা সংবেদনশীল।
একদিকে হিন্দুত্ববাদী গ্রুপগুলো এটাকে হিন্দু মেয়েদের রক্ষার প্রশ্ন বলে তোলে, অন্যদিকে সমালোচকরা বলেন এটা ইসলামোফোবিয়া এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে প্রচার। সরকারি তদন্তে কোনো বড় সংগঠিত ‘লাভ জিহাদ’ পাওয়া যায়নি, কিন্তু ব্যক্তিগত কিছু ঘটনা থেকে এই থিয়োরি বাড়ে। শঙ্করাচার্যের দাবি যদি সত্যি হয়, তাহলে তা গুরুতর, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এটা শুধু ভয় ছড়ানোর মতো।



















