৪০০০ কিমি দূরে ভারত মহাসাগরে সেনাঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা

তেহেরান: ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগরের (Indian Ocean) অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে এই দেশ। বলে রাখা ভাল ...

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
iran-missile-attempt-diego-garcia-4000km-indian-ocean-base

তেহেরান: ইতিমধ্যেই ভারত মহাসাগরের (Indian Ocean) অবস্থিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করে এই দেশ। বলে রাখা ভাল এই ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালনা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। এই ঘটনা শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রেও বড় বার্তা দিচ্ছে।

মার্কিন সূত্রের দাবি, ইরান দু’টি মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে এই ঘাঁটির দিকে। তবে কোনও ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। একটি মাঝপথেই বিকল হয়ে যায়। অন্যটি মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টর দিয়ে প্রতিহত করার হয়েছে বলে দাবি আমেরিকার।

   

এই হামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইরানের ভূখণ্ড থেকে এতটা দূরের সেনাঘাঁটিকে হামলার লক্ষ্য বানানো। দিয়েগো গার্সিয়া ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ৪,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার চেষ্টা আগে খুব একটা দেখা যায়নি।

এতদিন ইরান দাবি করত, তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার। কিন্তু এই হামলার চেষ্টা সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলায় খোররামশাহর-৪ শ্রেণির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪,০০০ কিলোমিটার বা তার বেশি হতে পারে বলে ধারণা।

এর অর্থ ইরানের প্রত্যাঘাত শুধু পশ্চিম এশিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজন হলে তারা অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুকেও আঘাত করার সক্ষমতা অর্জন করছে। ইউরোপের কিছু অংশের ভবিষ্যতে এই পাল্লার মধ্যে চলে আসতে পারে, এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

দিয়েগো গার্সিয়া শুধু একটি সামরিক ঘাঁটি নয়। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত কেন্দ্র। ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত এই ঘাঁটি বহু বছর ধরে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর যৌথ অপারেশনের মূল কেন্দ্র।

এই ঘাঁটি থেকে দীর্ঘপাল্লার বোমারু বিমান উড়ে যায়। আফগানিস্তান, ইরাক এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন অভিযানে এই ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখানে ভারী বোমারু বিমান, নজরদারি বিমান এবং বিপুল সামরিক সরঞ্জাম আগে থেকেই মজুত থাকে। ফলে এশিয়া, আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।

জানা যাচ্ছে, এই ঘাঁটি এতদিন সংঘাতের মূল এলাকা থেকে অনেক দূরে থাকায় তুলনামূলক ভাবে নিরাপদ বলেই মনে করা হতো। কিন্তু ইরানের এই হামলার চেষ্টা সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে।
এই হামলা সফল হয়নি। কিন্তু তার প্রভাব যথেষ্ট বড়।সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতে সংঘাত আরও জটিল হতে পারে, এই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।