কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের চাঞ্চল্যকর দলবদলের ঘটনা। (Shrabani Kashyapi)দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে উত্তর ব্যারাকপুর পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর শ্রাবণী কাশ্যপী তাঁর স্বামী মৃণ্ময় কাশ্যপী-কে সঙ্গে নিয়ে যোগ দিলেন বিজেপিতে। ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং-এর হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান তাঁরা।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, এই দলবদলের ইঙ্গিত বেশ কিছুদিন ধরেই পাওয়া যাচ্ছিল। গত বছরের নভেম্বর মাসেই প্রকাশ্যে অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন শ্রাবণী কাশ্যপী। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে তাঁরা অবহেলিত ও অপমানিত হচ্ছেন। সেই সময় থেকেই শিবির পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এমনকি তাঁদের ইছাপুরের বাড়িতে গিয়ে অর্জুন সিং সাক্ষাৎ করেন, যা রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়েছিল।
আরও দেখুনঃ নতুন সুপারসনিক LRASSCM ক্ষেপণাস্ত্র শীঘ্রই প্রস্তুত করবে DRDO
উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল বরাবরই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তারের লড়াই চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে একজন কার্যরত কাউন্সিলরের দলবদল নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে শ্রাবণী ও তাঁর স্বামীর দূরত্ব বাড়ছিল। উন্নয়নমূলক কাজ থেকে শুরু করে দলীয় সিদ্ধান্ত বিভিন্ন বিষয়ে অসন্তোষ জমে উঠছিল। তাঁদের অনুগামীদের মধ্যেও একই ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়। ফলে দলে থেকেই ধীরে ধীরে বেসুরো হয়ে ওঠেন তাঁরা। এই পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিজেপিতে যোগদানের সময় অর্জুন সিং তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন এবং স্বাগত জানান। তিনি বলেন, যারা তৃণমূলের ‘অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার’, তাদের জন্য বিজেপির দরজা সবসময় খোলা। তাঁর দাবি, আগামী নির্বাচনে ব্যারাকপুরে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে এবং এই ধরনের যোগদান সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব এই দলবদলকে তেমন গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত স্বার্থে কেউ দল ছাড়লে সংগঠনের ওপর তার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে না। বরং এতে দল আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে বলেই দাবি তাঁদের। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের দলবদল স্থানীয় স্তরে প্রভাব ফেলতেই পারে। বিশেষ করে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির দলত্যাগ তৃণমূলের সংগঠনে সাময়িক ধাক্কা দিতে পারে। পাশাপাশি বিজেপি এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে প্রচারে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।




















