নয়াদিল্লি: দেশডুড়ে এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট (LPG Crisis) এখন শুধু রান্নাঘরের সমস্যা নয়, অনেক পরিবারে ঝগড়া-বিবাদের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় রাবুপুরা থানার অন্তর্গত ভান্নাটাগা গ্রামে এমনই এক ঘটনা ঘটেছে৷ যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে৷ এক গৃহবধূ স্বামীর অবহেলায় গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে গেছেন। তাঁর কথা— “সিলিন্ডার এলে আমি ফিরে আসব”।
গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়া থেকে শুরু ঝামেলা
দীনেশ খুর্জা নামে স্থানীয় এক ট্রাক্টর চালকের স্ত্রী ও দুটি সন্তান।নিয়ে সাত বছরের সংসার৷ প্রায় এক সপ্তাহ আগে বাড়ির এলপিজি সিলিন্ডার শেষ হয়ে যায়। তারপর থেকে গৃহিণীকে কাঠ আর গোবরের ঘুঁটো দিয়ে রান্না করতে হচ্ছিল। স্বামীকে বারবার বলার পরও নতুন সিলিন্ডার আনতে অবহেলা করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে ঝগড়া বাড়তে থাকে।
সোমবার সকালে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই মহিলা৷ তিনি জানান, গ্যাস না পেলে শ্বশুরবাড়িতে থাকবেন না। এরপরই তিনি সন্তানদের নিয়ে বাবা-মায়ের বাড়িতে চলে যান। গ্রামের লোকজন বলছেন, এই ঘটনা শুনে সবাই অবাক। অনেকে মনে করছেন, গ্যাসের দাম বাড়া আর সরবরাহের অভাব এখন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলছে।
এলাকায় গ্যাস সংকটের ছবি একই রকম
গ্রেটার নয়ডার গ্রামাঞ্চলে এখন অনেক বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা, কালোবাজারে দাম বেড়ে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত৷ এসব খবর প্রতিদিন আসছে। নয়ডা, গাজিয়াবাদ, দিল্লির আশপাশে একই অবস্থা। অনেক পরিবারে রান্না বন্ধ, ছোট ব্যবসায়ীদের দোকানে চা-সমোসার দাম বেড়েছে। সরকার বলছে সরবরাহ ঠিক আছে, কিন্তু মানুষের অভিযোগ, বাস্তবে চরম ঘাটতি।
উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য জেলায়ও (যেমন দেওরিয়া) গ্যাস নিয়ে ঝগড়া থেকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ, কোথাও পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ। এই সংকট গৃহস্থালির ছোট ছোট সমস্যাকে বড় বিবাদে পরিণত করছে।
বাংলার দৃষ্টিতে এই ঘটনা
পশ্চিমবঙ্গেও এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ও সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ কম নয়। গ্রাম-শহরে অনেক পরিবারে এখনও কাঠের উনুন বা অন্য বিকল্পের উপর নির্ভর করতে হয়। বহরমপুর বা মুর্শিদাবাদের মতো এলাকায় যেখানে গৃহিণীরা রান্নাঘর সামলান, সেখানে এমন সংকট হলে পরিবারে টানাপোড়েন বাড়তে পারে। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দৈনন্দিন জীবনের ছোট চাহিদা পূরণ না হলে সম্পর্কের ভিত কাঁপতে শুরু করে।
যদিও নয়দার ঘটনায় স্বামী থানায় কোনও অভিযোগ করেননি, তবু গ্রামের লোকেরা বলছেন, দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে পরিবার আবার একসঙ্গে হোক। গ্যাস সংকটের মাঝে এমন খবর আরও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের কষ্টের ছবি তুলে ধরছে।




















