তেহরান: ইরানের রাজধানী তেহরানে আরেকটা বড় ধাক্কা। (Mohammad Sarlak killed)বাসিজ মিলিশিয়ার একজন সিনিয়র কমান্ডার মহম্মদ সারলাককে নিহত করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানী বিরোধী চ্যানেল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হচ্ছে, তেহরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটা চেকপয়েন্টে ড্রোন হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। কিছু সূত্র বলছে, এটা ইসরায়েলী ড্রোন হামলা। তবে ইরান সরকার বা IRGC-এর পক্ষ থেকে এখনও অফিশিয়াল নিশ্চিতকরণ আসেনি।
এই ঘটনা ইরান-ইসরায়েলের চলতে থাকা ছায়াযুদ্ধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।মহম্মদ সারলাক ছিলেন টেহরানের ওজগোল এলাকার বাসিজ ডিস্ট্রিক্ট ১৭১-এর কমান্ডার। IRGC কলোনেল পদমর্যাদার এই অফিসারকে বাসিজের স্থানীয় নেতৃত্বের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলে মনে করা হতো। বিরোধী সূত্রের দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের বিক্ষোভ দমনে তার হাতে অন্তত ১০-১৫ জন প্রতিবাদকারীর মৃত্যুর দায় রয়েছে।
আরও দেখুনঃ নর্থইস্টের কাছে আটকে গেল জামশেদপুর, শীর্ষে থাকল সবুজ-মেরুন
ওজগোল এলাকায় বাসিজের চেকপয়েন্টে তিনি কঠোর নিয়ন্ত্রণ চালাতেন, যা বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভের কারণ ছিল। এই হামলা যদি সত্যি হয়, তাহলে এটা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর একটা বড় ক্ষতি।খবর ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ইরানী বিরোধী অ্যাকাউন্টগুলোতে ভিডিও এবং ছবি শেয়ার হচ্ছে, যাতে দাবি করা হচ্ছে ড্রোন হামলায় চেকপয়েন্ট ধ্বংস হয়েছে এবং সারলাক নিহত।
কিছু পোস্টে বলা হয়েছে, এটা ইসরায়েলের ‘টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন’। ইরানী অপোজিশন চ্যানেলগুলো এটাকে ‘রেজিমের নেতাদের পতন’-এর অংশ বলে উল্লাস করছে। একদিকে, এই ধরনের খবর ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাড়াতে পারে, অন্যদিকে রেজিমের সমর্থকরা এটাকে ‘বিদেশি ষড়যন্ত্র’ বলে প্রচার করবে।এই ঘটনার পটভূমিতে রয়েছে ইরানের চলতে থাকা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বাইরের চাপ।
২০২৬ সালে ইরানে বিক্ষোভ, অর্থনৈতিক সংকট এবং প্রতিবাদ দমনের ঘটনা বেড়েছে। বাসিজ মিলিশিয়া, যা লক্ষ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে গঠিত, রেজিমের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বাহিনী। তারা বিক্ষোভ দমনে সামনের সারিতে থাকে। সারলাকের মতো স্থানীয় কমান্ডারদের নিশানা করা মানে রেজিমের গ্রাউন্ড লেভেল কন্ট্রোল দুর্বল করা। এর আগে ইরানের গোয়েন্দা প্রধান, IRGC অফিসারদের নিশানা করে হামলা হয়েছে, যা ইসরায়েলের সাথে যুক্ত বলে দাবি করা হয়।
ইরান সরকার এখনও চুপ। যদি নিহত হওয়া নিশ্চিত হয়, তাহলে তারা ‘শহীদ’ বলে ঘোষণা করবে এবং প্রতিশোধের হুমকি দেবে। বিরোধীরা বলছে, এটা রেজিমের দুর্বলতার প্রমাণ। তেহরানের মত রাজধানীতে এমন হামলা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্ন উঠবে। আন্তর্জাতিক মহলে এটা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমেরিকা এবং ইসরায়েলের মধ্যে সমন্বয় থাকলে এমন অপারেশন সম্ভব।



















