ইরান নিয়ে গলা ফাটান-রাস্তায় নামাজে কড়া দাওয়াইয়ের হুঁশিয়ারি যোগী পুলিশের

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় রাজনীতিতে (UP Police)। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
up-police-warning-pro-iran-slogans-sambhal

লখনউ: উত্তরপ্রদেশের সম্ভল জেলায় ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে স্থানীয় রাজনীতিতে (UP Police)। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ভারতের কিছু অংশে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। সম্ভলে শান্তি কমিটির বৈঠকে সার্কেল অফিসার কুলদীপ কুমার স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পক্ষে স্লোগান বা সংহতি প্রকাশ করা যাবে না।

তিনি বলেছেন, “ইরানের জন্য যাদের বুক ফেটে যাচ্ছে, তারা সেখানে গিয়ে লড়াই করুন।” শুক্রবারের নামাজ বা ঈদের সময় কোনো বিদেশি দেশের পক্ষে-বিপক্ষে স্লোগান, প্ল্যাকার্ড বা কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ দেখানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাস্তায় নামাজ পড়লে জেলে পাঠানো হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। এই মন্তব্য ভিডিও আকারে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে, যা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

   

আরও দেখুনঃ ব্রিগেডে মোদীর সমাবেশে এক লক্ষ লোকের জন্য খাবার, মেনুতে থাকছে চমক

পুলিশের এই অবস্থানকে অনেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলছেন। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেশের ভেতরে বিদেশি সংঘাতের প্রভাব পড়ে শান্তি ভঙ্গ করা যাবে না। সম্ভলের কোতোয়ালি থানায় শান্তি কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ঈদ ও আলভিদা জুমার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে। প্রশাসনের দাবি, এতে কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, শুধু শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য।

কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই ভাষা অত্যধিক কঠোর এবং একপেশে।এই পরিস্থিতিতে বিএসপি নেতা ও নাগিনা থেকে সাংসদ চন্দ্রশেখর আজাদ (রাভান) মাঠে নেমেছেন। তিনি ইরানের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছেন, “সীমা লঙ্ঘন করলে শক্ত জবাব আসতে পারে।” খামেনির মৃত্যুকে “এক যুগের অবসান” বলে শোক প্রকাশ করেছেন তিনি এবং খামেনিকে “ভারতের বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ভারত-ইরানের সম্পর্ককে শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে বলে উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে প্রশ্ন করেছেন ভারত কি যুদ্ধের রাজনীতির পক্ষে, নাকি স্বাধীন কূটনীতি ও সহানুভূতির? যুদ্ধকে “ধ্বংসের পথ” বলে তিনি শান্তির আহ্বান জানিয়েছেন।কিন্তু চন্দ্রশেখরের এই অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

কেউ কেউ তার বক্তব্যকে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ইরানের সঙ্গে তুলনা করে অদ্ভুত বলছেন। সমালোচকদের মতে, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি ইস্যুকে টেনে আনা এবং ইরানের পক্ষে এতটা সরব হওয়া যেন ভারতকে তেহরানের রাজনীতির একটা অংশ বানিয়ে ফেলছে। তারা এটাকে “পিওর অ্যাপিজমেন্ট” বলে অভিহিত করেছেন অর্থাৎ ভোটব্যাঙ্কের জন্য সংখ্যালঘু তোষণ। কেউ বলছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার নিয়ে চুপ থেকে ইরান নিয়ে এত উচ্চবাচ্য করা দ্বিচারিতা। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা ভুলে ইরানের পক্ষে দাঁড়ানোকে অনেকে অযৌক্তিক মনে করছেন।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.