নয়াদিল্লি: বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (Attacks on Hindus)উপর ৩,১০০-এরও বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারত সরকারের তথ্য অনুসারে, মানবাধিকার সংস্থাগুলোর রিপোর্ট থেকে এই সংখ্যা পাওয়া গেছে। আগস্ট ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত এই সময়কালে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উপাসনাস্থল সবকিছু লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল এমন অনেক ঘটনা রয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে এই অস্থিরতা শুরু হয়েছে। প্রথম কয়েক সপ্তাহে হাজারখানেক ঘটনা ঘটে, তারপরও এটা থামেনি।ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিটা লোকসভায় এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ভারত সরকার এই ঘটনাগুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের বাড়ি, উপাসনাস্থল ও সম্পত্তির উপর হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ আত্মসমর্পণ নিয়ে বিস্ফোরক ইরানের বিদেশমন্ত্রী
ভারত বারবার বাংলাদেশ সরকারকে বলেছে যে এই হামলাগুলোর তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব। ভারতের দাবি, এই ঘটনাগুলোকে শুধু রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকায় সক্রিয়। তারা জানিয়েছে, বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ২৪ ঘণ্টা জরুরি হেল্পলাইন চালু রয়েছে।
যে কোনো ভারতীয় নাগরিক যদি বিপদে পড়েন বা সাহায্য চান, তাহলে এই হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন। হাইকমিশনের একজন বিশেষ কনস্যুলার অফিসার রয়েছেন, যিনি ভারতীয়দের অভিযোগ শোনেন এবং সমাধান করেন। নিয়মিত ‘ওপেন হাউস’ আয়োজন করে ভারতীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলা হয়। যদিও এই সুবিধা মূলত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য, কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব দেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর এই হামলা নতুন নয়, কিন্তু ২০২৪-এর আগস্টের পর থেকে এটা বেড়েছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের রিপোর্ট অনুসারে, প্রথম ১৬ দিনেই ২,০১০-এর বেশি ঘটনা ঘটেছে। মন্দির ভাঙা, বাড়িতে আগুন, মহিলাদের উপর অত্যাচার এসবের খবর এসেছে। পরে সংখ্যা আরও বেড়েছে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৪-এর শেষ পর্যন্ত ২,৪৪২-এর মতো ঘটনা। ভারত সরকারের দেওয়া ৩,১০০ সংখ্যা মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য কিছু ক্ষেত্রে এই সংখ্যা কম বলে দাবি করেছে, বলেছে অনেক ঘটনা রাজনৈতিক বা অপরাধমূলক। কিন্তু ভারত বলছে, এই প্যাটার্ন চলতে থাকলে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিপন্ন।



















