উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ৪৪তম মিসাইল হানা, কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য

Iran Missile Attack on US Bases

তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার যুদ্ধ পা রাখল দ্বিতীয় সপ্তাহে। আজ শুক্রবার ইরানের অজ্ঞাত স্থান থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধেয়ে এসেছে একের পর এক ব্যালিস্টিক মিসাইল। এটি ছিল যুদ্ধের ১৪ দিনের মাথায় ইরানের ৪৪তম দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।

নিশানায় সাত দেশের মার্কিন ঘাঁটি

প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের এই বিধ্বংসী মিসাইলগুলো কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সৌদি আরব, জর্ডান এবং খোদ ইসরায়েলের মাটিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে। হামলার পরপরই পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং সক্রিয় হয়ে ওঠে উন্নত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো রুখে দিতে ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে।

   

“আগুনে জ্বলবে জ্বালানি খনি”, ইরানের চরম হুঁশিয়ারি Iran Missile Attack on US Bases

ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’-এর এক মুখপাত্র সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়ে জানিয়েছেন, যদি ইরানের কোনো জ্বালানি অবকাঠামো বা বন্দরে আঘাত হানা হয়, তবে তারা পুরো অঞ্চলের তেল ও গ্যাস শিল্পে “আগুন ধরিয়ে দেবে”। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের চরম আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারি জানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে বলেছেন:

“যুদ্ধ শুরু করা সহজ, কিন্তু কয়েকটি টুইট করে যুদ্ধ জেতা যায় না। যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই মারাত্মক ভুলের জন্য অনুতপ্ত না হওয়া পর্যন্ত ইরান লড়াই থামাবে না।”

ট্রাম্পের ‘দ্রুত জয়’ এবং বাস্তব চিত্র

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুত জয়ের যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এখন শুধুই মিসাইল আর যুদ্ধবিমানের গর্জন। একদিকে যেমন মার্কিন ঘাঁটিগুলো আক্রান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও তাদের সম্পদ রক্ষায় মরিয়া হয়ে মরণকামড় দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মহলের আশঙ্কা, এই সংঘাত যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তবে তা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে।