যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি বন্ধ করল ইরান

তেহরান: আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলতে থাকা যুদ্ধের মধ্যে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার (Iran)। দেশের সব খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
iran-bans-food-agricultural-exports-amid-war-tensions

তেহরান: আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলতে থাকা যুদ্ধের মধ্যে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান সরকার (Iran)। দেশের সব খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি অনির্দিষ্টকালের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই খবর প্রকাশ করেছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সব ধরনের খাদ্য ও কৃষিজাত পণ্যের রফতানি আরও নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।”

এই নিষেধাজ্ঞা ৩ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রফতানিকারক দেশ। তার প্রধান খাদ্য রফতানি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পেস্তা , জাফরান , খেজুর, কিশমিশ, বাদাম, আখরোট এবং অন্যান্য শুকনো ফল-বাদাম। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিশেষ করে ইরাক, আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানে তাজা ফল, সবজি, দুগ্ধজাত পণ্যও রফতানি হয়।

   

আরও দেখুনঃ ইরানে উর্মিয়া ইউনিভার্সিটির ভারতীয় হোস্টেলের কাছে মিসাইল হামলা

গত কয়েক বছরে ইরানের কৃষি রফতানি বেড়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এটি ৫.২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া, ড্রোন-মিসাইল হামলা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার মধ্যে সরকার খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন।এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে মূল কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে খাদ্যের দাম বাড়ছে, সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হচ্ছে।

সরকার চায় না যে রফতানির কারণে দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিক। একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, “যুদ্ধের সময় খাদ্য নিরাপত্তা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেদের মানুষের জন্য প্রথমে ভাবছি।” এর আগেও ইরান বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট ফসলের রফতানি বন্ধ করেছে যেমন আলু, ডাল, আপেল, কমলা দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য। কিন্তু এবার সব খাদ্যপণ্যের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অভূতপূর্ব।ইরানের কৃষি খাত যুদ্ধের মধ্যেও শক্তিশালী।

গত অর্থবছরে কৃষি উৎপাদন ৩.২% বেড়েছে, রফতানি ৩২% বৃদ্ধি পেয়েছে। পেস্তা ও জাফরানের মতো পণ্য বিশ্ববাজারে ইরানের একচেটিয়া অবস্থান রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞায় বিশ্ববাজারে প্রভাব পড়বে। জাফরানের দাম বাড়তে পারে, পেস্তা ও খেজুরের সরবরাহ কমে যাবে। প্রতিবেশী দেশগুলো ইরাক, যেখানে ইরান থেকে অনেক খাদ্য আসে সংকটে পড়তে পারে। তবে ইরানের অর্থনীতি যুদ্ধের চাপে পড়েছে, রফতানি থেকে আয় কমছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। তেহরানের এক বাজার ব্যবসায়ী বলেন, “দাম বাড়ছে, কিন্তু অন্তত খাবার পাওয়া যাবে। যুদ্ধের মধ্যে রফতানি করলে দেশে কী হতো?” অন্যদিকে কৃষকরা উদ্বিগ্ন রফতানি বন্ধ হলে তাদের আয় কমবে। সরকার বলছে, এই নিষেধাজ্ঞা অস্থায়ী, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু যুদ্ধ কতদিন চলবে, তা কেউ বলতে পারছে না।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.