কলকাতা: রাজনীতিতে চিরশত্রু বা চিরমিত্র বলে কিছু হয় না, এই প্রচলিত প্রবাদটিই যেন আরও একবার প্রমাণিত হলো তৃণমূলের রাজ্যসভা মনোনয়নকে কেন্দ্র করে। সারদা মামলায় যে আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে একসময় বিষোদগার করেছিলেন, আজ সেই রাজীব কুমারের রাজ্যসভায় যাওয়াকে ‘মমতার মাস্টারস্ট্রোক’ এবং ‘সেরা মনোনয়ন’ বলে দরাজ সার্টিফিকেট দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
সারদা থেকে সিট: সেই তিক্ত লড়াই
স্মৃতি হাতড়ালে দেখা যায়, সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে রাজ্য গঠিত সিট (SIT)-এর প্রধান থাকাকালীন রাজীব কুমারের সঙ্গে কুণাল ঘোষের সম্পর্ক ছিল আদায়-কাঁচকলায়। গ্রেফতার হওয়ার পর কুণাল বারবার অভিযোগ করেছিলেন, মুকুল রায়ের অঙ্গুলিহেলনে রাজীব কুমার তাঁকে ফাঁসিয়েছেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বাঁচাতে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছেন। সিবিআই-এর মুখোমুখি বসেও রাজীবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। এমনকি সম্প্রতি মুকুল রায়ের প্রয়াণের পরও কুণাল সমাজমাধ্যমে লিখেছিলেন, “ও আমার ক্ষতি করার কারিগর।” যদিও সেখানে রাজীবের নাম সরাসরি নেননি তিনি।
ভোলবদল না কি সময়ের দাবি? Kunal Ghosh reaction on Rajeev Kumar
তবে শুক্রবার রাজীব কুমারের মনোনয়ন ঘোষণার পর কুণালের গলায় শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর। অতীতের সেই তিক্ততাকে ‘পুরনো কাসুন্দি’ বলে উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “রাজীব কুমার একজন অত্যন্ত দক্ষ অফিসার। তাঁর দক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠতে পারে না। নেত্রী যাঁদের সংসদে পাঠানোর প্রয়োজন মনে করেছেন, নিশ্চিতভাবেই তাঁরা সেরা প্রার্থী। ৪ জনই খুব ভালো হয়েছে।”
নিজের পুরনো আক্রমণের সাফাই দিতে গিয়ে কুণাল টেনে এনেছেন শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ। তাঁর যুক্তি, “শুভেন্দু অধিকারীও তো একসময় নরেন্দ্র মোদী বা অমিত শাহের সমালোচনা করেছিলেন। পুরনো কথার ভিত্তিতে আজকের বিচার হয় না। ওটা একটা আলাদা পার্ট ছিল, এটা আলাদা।”
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজীব কুমারের মতো একজন দক্ষ ও বিশ্বস্ত প্রাক্তন আমলা কলকাঠি নাড়লে সংসদে তৃণমূলের স্বর আরও জোরালো হবে। অন্যদিকে, কুণাল ঘোষের এই ভোলবদল প্রমাণ করে যে, দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের সামনে ব্যক্তিগত বিবাদ এখন গৌণ। সারদা মামলার সেই ‘তদন্তকারী’ এবং ‘অভিযুক্ত’, উভয়েই এখন একই রাজনৈতিক ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে নতুন লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজীব কুমারের এই রাজনৈতিক পদার্পণ এবং কুণালের সমর্থন ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সংহতির বার্তাই দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















